পোস্টার ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে: কালীঘাট তৃণমূলের পোস্টারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি না থাকায় কী ইঙ্গিত?

একুশে জুলাইয়ের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যখন উত্তাপ বাড়ছে, ঠিক তখনই তৃণমূলের নতুন প্রচার-পোস্টার ঘিরে শুরু হলো জোর জল্পনা। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সমাবেশের স্থান চূড়ান্ত হওয়ার পর তৃণমূল যে নতুন পোস্টার প্রকাশ করেছে, তাতে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পোস্টারে বদল ও জল্পনার সূত্রপাত সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের শেয়ার করা নতুন পোস্টারে কেবল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি জ্বলজ্বল করছে। সমাবেশের স্লোগান হিসেবে রাখা হয়েছে ‘বিড়লা তারামণ্ডল চলুন’। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেই তৃণমূলের প্রকাশিত পোস্টারে মমতার পাশাপাশি অভিষেকের ছবিও ছিল। সমাবেশের স্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই অভিষেকের ছবি ও বক্তাদের তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়াটা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এড়ায়নি।

তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতা এই ছবিহীন পোস্টারের ঘটনাটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বর্তমানে দলের অন্দরে তীব্র অস্থিরতা স্পষ্ট। বিশেষ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নব্য তৃণমূল শিবিরে বিধায়কদের যোগ দেওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, যারা শিবির বদল করছেন, তাদের প্রায় প্রত্যেকেই দল ছাড়ার সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

নতুন সংযোজন মদন মিত্র এই পরিস্থিতির আবহে সাম্প্রতিক সংযোজন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। দীর্ঘদিনের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত হিসেবে পরিচিত মদন মিত্র বুধবারই আনুষ্ঠানিকভাবে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে দলে যখন একের পর এক নেতা দলবদল করছেন, অন্যদিকে তখনই পোস্টার থেকে অভিষেকের ছবি সরে যাওয়া—এই দুই ঘটনার মধ্যে গভীর যোগসূত্র থাকতে পারে।

একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ তৃণমূলের কাছে বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে অভিষেকের উপস্থিতি থাকবে কি না, কিংবা এই পোস্টার বিতর্ক দলের অন্দরে কোনো নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে চর্চা। তবে দলের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *