“আমাদের ছেড়ে যাবেন না,” সোনম ওয়াংচুকের অনশন নিয়ে সোনি রাজদান থেকে নাসিরুদ্দিন—কারা কী বলছেন?

নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ও শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের অনশন আজ ১৮তম দিনে পদার্পণ করল। দীর্ঘ টানা অনশনের ফলে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, অনশনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তাঁর ওজন সাড়ে ৮ কেজি কমেছে। তাঁর এই সংকটময় মুহূর্তে পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের একঝাঁক তারকা।
তারকাদের উদ্বেগ ও বার্তা সোনম ওয়াংচুকের এই লড়াইয়ে সংহতি প্রকাশ করে আলিয়া ভাটের মা ও অভিনেত্রী সোনি রাজদান সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে তিনি লেখেন, “ভবিষ্যতের বড় লড়াইয়ের জন্য আপনার সুস্থ থাকা জরুরি। দয়া করে আমাদের ছেড়ে যাবেন না, আপনাকে আমাদের প্রয়োজন।”
যন্তরমন্তরে সরাসরি আন্দোলনস্থলে গিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর। তিনি বলেন, “এই লড়াই কেবল আজকের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এছাড়া অভিনেতা অভয় দেওল, জিনাত আমান, শাবানা আজমি, নাসিরুদ্দিন শাহ এবং ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবির অভিনেতা ওমি বৈদ্যও সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি গভীর উদ্বেগ ও সংহতি জানিয়েছেন।
সরকারের নীরবতা ও আইনি হস্তক্ষেপ ২৮ জুন থেকে আমরণ অনশনে থাকা সোনম ওয়াংচুকের মূল দাবি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বারবার আলোচনার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার এখনো কোনো সাড়া দেয়নি।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আজ দিল্লি হাইকোর্টও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে দায়ের করা এক মামলার শুনানিতে আদালত কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে নোটিশ জারি করেছে। আগামিকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জবাব তলব করেছে হাইকোর্ট।
আমির খানের নীরবতা নিয়ে চর্চা এদিকে, বাস্তব জীবনের এই ‘ফুংসুক ওয়াংড়ু’-র পাশে যখন বলিউডের বড় অংশের শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা দাঁড়িয়েছেন, তখন ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা আমির খান ও পরিচালক রাজকুমার হিরানি এখনো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি, যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করতে এবং দ্রুত কোনো সরকারি আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে এখন দেশের নজর দিল্লি হাইকোর্টের আগামিকালের শুনানির দিকে।