চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি ও সরকারি গাফিলতি? শিশুকন্যার ডান হাত হারানোর ঘটনায় উত্তাল বিষ্ণুপুর

চিকিৎসার আশ্বাসে ভরসা করে গিয়ে শেষে শিশুকন্যার ডান হাতটিই হারাতে হলো এক হতদরিদ্র পরিবারকে। আর এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্প ও সংশ্লিষ্ট কর্তাদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হলেন বিষ্ণুপুরের বোরহানপুর গ্রামের মান্না পরিবার।

অভিযোগের নেপথ্যে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে আড়াই বছরের শিশুকন্যা কৃতি মান্নাকে নিয়ে পৈলানের মডেল সেবাশ্রয় ক্যাম্পে গিয়েছিলেন বাবা চিত্তরঞ্জন মান্না ও মা রুমা মান্না। কৃতির ডান হাতে দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল, যার চিকিৎসা চলছিল দিল্লির এইমসে (AIIMS)। অভাবের সংসারে মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাওয়া পরিবারটি সে সময় সেবাশ্রয় ক্যাম্পের দ্বারস্থ হয়েছিল।

পরিবারের দাবি, সেই ক্যাম্পে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। সে সময় অভিষেক তাঁদের মেয়ের চিকিৎসা ও পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নিঃশব্দ বিপ্লব’ বইয়ের ২২৩ নম্বর পৃষ্ঠায় কৃতির ছবিও প্রচার করা হয়েছিল।

কেন হাত খোয়াতে হলো কৃতিকে? অভিভাবকদের অভিযোগ, সেবাশ্রয় ক্যাম্পে যাওয়ার পর প্রায় ৬ মাস কেটে গেলেও কৃতির চিকিৎসায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিশ্রুতি থাকলেও মেলেনি সঠিক চিকিৎসা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষে বাধ্য হয়ে বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, অনেক দেরি হয়ে গেছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় শিশুটির ডান হাতটি বাদ দিতে হয়।

পরিবারের হুঁশিয়ারি ও আইনের পথ কান্নাভেজা কণ্ঠে শিশুর বাবা চিত্তরঞ্জন মান্না বলেন, “আমরা সব হারিয়ে সেবাশ্রয়ে গিয়েছিলাম। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাসে বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু আজ মেয়ের হাতটাই হারাতে হলো। শুধু সেবাশ্রয়ে গিয়েছিলাম বলেই এই পরিণতি।” মা রুমা মান্না অভিযোগের সুরে বলেন, “এর জন্য সরাসরি দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সেবাশ্রয় ক্যাম্প। আমরা এর বিচার চাই এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সেবাশ্রয় ক্যাম্প বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রেক্ষিতে এখন আইনি লড়াই কতদূর এগোয়, সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *