স্ট্রোকের চিকিৎসায় বড় ভরসা মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য প্রকল্প! পাঞ্জাবে বাঁচল বহু প্রাণ

বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে ‘ব্রেইন অ্যাটাক’ বা স্ট্রোক এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পাঞ্জাব সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য প্রকল্পের (CM’s Health Scheme) সৌজন্যে এই মারণরোগের চিকিৎসা এখন আর সাধারণ পরিবারের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে এই প্রকল্পের আওতায় ৯১৪ জন স্ট্রোক রোগীর সফল চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে।
চিকিৎসায় ৪ কোটিরও বেশি ব্যয়
রাজ্য স্বাস্থ্য সংস্থার (SHA) রিপোর্ট বলছে, গত ছয় মাসে স্ট্রোক রোগীদের চিকিৎসায় মোট ৪.১৫ কোটি টাকা খরচ করেছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে ৪৮টি ছিল ‘তীব্র ইস্কেমিক স্ট্রোক’-এর ঘটনা, যার চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ১৪.২৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। সিটি স্ক্যান, এমআরআই, ট্র্যাকিওস্টমি এবং রক্ত সঞ্চালনের মতো জটিল প্রক্রিয়াগুলোর খরচও এই প্রকল্পের মাধ্যমেই বহন করা হয়েছে।
পাঞ্জাবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ বলবীর সিং জানিয়েছেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো, কোনো পরিবার যেন আর্থিক অনটনের কারণে সময়মতো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান, আর এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা সেই মূল্যবান সময়ে জীবন বাঁচাতে সাহায্য করছে।”
সতর্কতা ও আধুনিক চিকিৎসা
স্ট্রোক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ইমেজিং ও নিবিড় পরিচর্যার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোকের লক্ষণগুলো চিনে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোই সাফল্যের চাবিকাঠি। সিনিয়র কনসালটেন্ট নিউরোসার্জন ডা. হরমান সোবতি জানান, “শরীরের কোনো অংশ হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়া, মুখের এক পাশ ঝুলে যাওয়া বা কথা বলতে অসুবিধার মতো লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”
প্রতিরোধেই সুস্থতা
চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাত্রার পরিবর্তনও জরুরি:
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস: নিয়মিত চেকআপ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রক্তচাপ ও সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা।
স্বাস্থ্যকর অভ্যাস: ধূমপান বর্জন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অস্বাস্থ্যকর ডায়েট এড়িয়ে চলা।
সচেতনতা: স্ট্রোক যে প্রতিরোধযোগ্য, সেই বিষয়টি সম্পর্কে পরিবারগুলোকে আরও সচেতন হতে হবে।
একটি সুরক্ষাজাল
পাঞ্জাবের এই স্বাস্থ্য প্রকল্প শুধু চিকিৎসা দিচ্ছে না, বরং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য একটি আর্থিক সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। জটিল স্ট্রোকের ব্যয়বহুল চিকিৎসা যেখানে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে যাওয়ার ভয় থাকে, সেখানে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করছে, পাঞ্জাবের এই মডেলটি স্ট্রোকের মতো জরুরি অবস্থায় চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে অন্য রাজ্যগুলোর জন্যও এক অনুপ্রেরণা হতে পারে।