রাফালের নতুন মারণাস্ত্র! ড্রোন ধ্বংস করতে ৬৮ মিমি লেজার-গাইডেড রকেট যুক্ত করল ফ্রান্স

আধুনিক আকাশযুদ্ধে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে আকাশ সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল ফ্রান্স। ফরাসি বিমান বাহিনী তাদের আইকনিক ‘রাফাল’ (Rafale) যুদ্ধবিমানে সফলভাবে ৬৮ মিমি লেজার-গাইডেড রকেট সংযোজন করেছে। এই প্রযুক্তি যুদ্ধবিমানকে কেবল নিখুঁত লক্ষ্যভেদে সক্ষম করবে না, বরং সাশ্রয়ী উপায়ে ড্রোন মোকাবিলায় এক নতুন দিশা দেখাবে।

কেন এই উদ্যোগ?
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আবহে ‘শহেদ-১৩৬’-এর মতো সস্তা অথচ ভয়ংকর ড্রোনগুলো বিশ্বজুড়ে সামরিক চিন্তাবিদদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। ফরাসি বিমান ও মহাকাশ বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জেনারেল জেরোম বেলাঞ্জারের কথায়, “মাত্র কয়েক হাজার ডলারের ড্রোন ধ্বংস করতে ১০ লক্ষ ইউরো মূল্যের ‘মাইকা’ (MICA) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা কোনোভাবেই টেকসই কৌশল নয়।” এই সমস্যার সমাধানেই ‘লুট অ্যান্টি-ড্রোন সুর এভিয়ন ডি কমব্যাট’ (LADAC) কর্মসূচির আওতায় রাফালকে লেজার-গাইডেড রকেট দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে।

এই রকেটের বিশেষত্ব:
সাশ্রয়ী ও কার্যকরী: ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে সাশ্রয়ী লেজার-গাইডেড রকেট ড্রোন ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হবে।

দ্রুত ইন্টিগ্রেশন: চুক্তির মাত্র ৮ মাসের কম সময়ের মধ্যে এই সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে, যা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এক বড় সাফল্য।

বহুমুখী ব্যবহার: প্রাথমিকভাবে ফ্রান্সের জন্য তৈরি হলেও, ভবিষ্যতে রাফাল ব্যবহারকারী অন্যান্য দেশও এই প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারবে।

ভারতের জন্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ?
ভারতীয় বিমান বাহিনীর বহরে রাফাল এখন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্প্রতি ভারত আরও ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে, যার মধ্যে ৯৬টি ভারতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় তৈরি হবে। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো অভিযানে রাফালের অসামান্য সাফল্যের পর, এই যুদ্ধবিমান নিয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে আত্মবিশ্বাস আকাশছোঁয়া। বর্তমানের ২৯টি সক্রিয় স্কোয়াড্রনের শক্তি বাড়াতে রাফালের এই নতুন ‘অ্যান্টি-ড্রোন’ সক্ষমতা ভারতের আকাশসীমা সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

এক নজরে রাফালের শক্তি:

বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হাতে রয়েছে ৩৬টি রাফাল।

ভারতীয় নৌবাহিনীও ২৬টি রাফালের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

দেশীয় প্রযুক্তিতে ৬০ শতাংশ যন্ত্রাংশ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ভারত।

ফ্রান্সের এই সফল পরীক্ষা কেবল ফরাসি বাহিনীর নয়, বরং বিশ্বের অন্যান্য রাফাল ব্যবহারকারী দেশগুলোর জন্য নতুন সামরিক কৌশলের দরজা খুলে দিল। ড্রোন বা ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোনের মোকাবিলায় এখন রাফাল আগের চেয়ে অনেক বেশি ধারালো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *