নবম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষা? সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে CBSE-র নতুন নিয়ম!

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওপর ‘তিন-ভাষা নীতি’ (Three-language policy) চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি বি.ভি. নাগরত্ন (Justice B.V. Nagarathna) স্পষ্ট প্রশ্ন তোলেন, পড়ুয়াদের ওপর যখন এমনিতেই পড়াশোনার ব্যাপক চাপ থাকে, তখন নবম শ্রেণিতে নতুন কোনো ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা কেন?
আদালতের পর্যবেক্ষণ:
শুনানিকালে বিচারপতি নাগরত্ন মত প্রকাশ করেন যে, যদি তৃতীয় ভাষা শেখানোরই প্রয়োজন হয়, তবে তা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করা উচিত এবং নবম শ্রেণিতে গিয়ে তা শেষ হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু একেবারে নবম শ্রেণিতে এই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চও এই নীতির বাস্তবিক প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কী নিয়ে বিতর্ক?
চলতি জুলাই থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত তিনটি ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক করেছে CBSE, যার মধ্যে অন্তত দুটি ভাষা ভারতীয় হতে হবে। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি, গুরুগ্রাম, নয়ডা ও চেন্নাইয়ের মতো বিভিন্ন অঞ্চলের অভিভাবক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। পিটিশনারদের অভিযোগ:
প্রস্তুতির অভাব: হঠাৎ এই নীতি কার্যকরের ফলে স্কুলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। নেই পর্যাপ্ত পাঠ্যবই।
শিক্ষক সংকট: যোগ্য ভাষা শিক্ষকের তীব্র অভাব রয়েছে, ফলে কার্যকরভাবে এই নতুন পাঠ্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
পড়াশোনায় ব্যাঘাত: যে শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণি থেকে বিদেশি ভাষা শিখে আসছে, তাদের হঠাৎ তা বন্ধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত খেয়ালখুশি মতো নেওয়া হয়েছে, যা পড়ুয়াদের দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কেন্দ্র ও CBSE-কে নোটিশ:
আদালত এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, CBSE এবং NCERT-কে নোটিশ পাঠিয়েছে। গতানুগতিক পরিকাঠামোর অভাব এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত একাডেমিক চাপের বিষয়টি মাথায় রেখে এই মামলার পরবর্তী শুনানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। অভিভাবক ও স্কুলগুলোর দাবি, তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে এবং পরিকাঠামো নিশ্চিত করেই যেকোনো শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করা উচিত।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এই লড়াইয়ে শীর্ষ আদালত শেষ পর্যন্ত কী রায় দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দেশ।