‘যোগীজিকে দেখে উৎসাহ পাই’,-তারকেশ্বর ধাম সাজাতে ১৫ কোটির প্রজেক্ট ঘোষণা শুভেন্দুর

এবার কাশীর বিশ্বনাথ বা উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দিরের ধাঁচেই সেজে উঠবে বাংলার তারকেশ্বর ধাম। মঙ্গলবার শ্রাবণী মেলার উদ্বোধন করতে গিয়ে তারকেশ্বরকে ‘আন্তর্জাতিক তীর্থক্ষেত্র’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি শ্রাবণী মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন।
পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ: এদিন রুদ্রাক্ষের মালা ও কপালে তিলক ধারণ করে তারকনাথের মহিমা কীর্তন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই সরাসরি নাম না করে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিগত সরকার ধর্মীয় ক্ষেত্রে ‘তোষণ নীতি’ অনুসরণ করত এবং একটি চোখ বন্ধ করে রাখত। তিনি বলেন, “রাজা-জমিদারি প্রথা শেষ, এখন লোকধর্ম পালন করতে হয়। ভক্তরা ৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটে জল ঢালতে আসেন, কিন্তু আগের সরকার ট্র্যাফিক সামলানোর বাইরে কোনো উদ্যোগই নেয়নি।”
হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির প্রতিশ্রুতি: উত্তরাখণ্ডের কাওঁয়ার যাত্রার ধাঁচে এবার তারকেশ্বরেও অভিনব উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে, শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার হেলিকপ্টার থেকে ভক্তদের ওপর পুষ্পবৃষ্টি করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত যাত্রাপথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর সরকারি সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, যেখানে জল, ওআরএস (ORS) ও বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকবে।
তীর্থক্ষেত্র সার্কিট প্রকল্প: শুধুমাত্র তারকেশ্বর নয়, গোটা রাজ্যের ধর্মীয় পর্যটনকে একসূত্রে বাঁধার জন্য ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ প্রকল্পের কথা পুনরায় মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মুর্শিদাবাদের কিরীটেশ্বরী, কোচবিহারের মদনমোহন জিউ, জলপাইগুড়ির জল্পেশ এবং বীরভূমের তারাপীঠ পর্যন্ত তীর্থস্থানগুলিকে সাজাতে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য: মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ৬৫ দিন। তিনি ভক্তদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যেমন কাশী ও উজ্জয়িনীকে নবসাজে সেজে তুলেছেন, আমরাও তারকেশ্বরকে সেই উচ্চতায় নিয়ে যাব। কিছু কাজ এখনো বাকি আছে, যা আগামী দিনে দ্রুত বাস্তবায়িত করা হবে।”
সব মিলিয়ে, তারকেশ্বরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের এই নতুন ধর্মীয় পর্যটন মডেল এখন বঙ্গ রাজনীতির ও পর্যটনের অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।