দেশে করোনায় মৃত ২, পশ্চিমবঙ্গে বিপদ কতটা? কি বলছেন চিকিৎসকরা?

দেশজুড়ে ফের বাড়বাড়ন্ত করোনাভাইরাসের সংক্রমণের। মূলত অন্ধ্রপ্রদেশ এবং মুম্বই থেকে নয়া সংক্রমণের খবর মেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ২ জনের মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ফের কোনো মহামারীর মুখে দাঁড়িয়ে দেশ? পশ্চিমবঙ্গ কি নিরাপদ? এই সব বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা।
নয়া ভ্যারিয়েন্ট ‘সিকাডা বিএ৩.২’: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: রজত বসুর মতে, এশিয়া ও ইউরোপের বেশ কিছু দেশে ওমিক্রনের একটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট ‘সিকাডা বিএ৩.২’ (Cicada BA.3.2) সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম এই ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হয়েছিল। বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ও আইসিএমআর (ICMR) এর জেনেটিক প্রোফাইল পর্যালোচনা করে দেখছে।
করোনা কি স্থায়ী হতে চলেছে? বিশিষ্ট মেডিসিনের প্রফেসর ডা: জ্যোতির্ময় পালের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মতোই করোনাভাইরাস আমাদের মাঝে থেকে যাবে। সময়সাপেক্ষে এর মারণ ক্ষমতা কমলেও, এটি সম্পূর্ণ নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনা কম। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: শিঞ্জিনী ঘোষও একই মত পোষণ করেন। তাঁর কথায়, সংক্রমণ মাঝে মাঝেই বাড়বে ও কমবে, এটাই এখন ‘নিউ নর্মাল’।
ফুসফুসের ওপর প্রভাব ও রাজ্যের পরিস্থিতি: পালমোনোলজিস্ট ডা: অরূপ হালদার জানিয়েছেন, কয়েকটি কেস সামনে এলেও এখনই বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা নেই। তবে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ বা কলকাতার পরিস্থিতির বিষয়ে চিকিৎসকরা অনেকটাই আশ্বস্ত করেছেন। ভারত সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
সতর্কতায় রোগ লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়: নয়া ভ্যারিয়েন্টের আক্রমণের প্রধান লক্ষণগুলি হলো:
-
গলা খুসখুস করা।
-
অতিরিক্ত দুর্বলতা।
-
হালকা জ্বর ও কাশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণ এড়াতে আবারও পুরনো অভ্যাসগুলোতে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন: ১. জনবহুল এলাকায় বা বাইরে বেরোলে অবশ্যই মাস্ক পরুন। ২. সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের অভ্যাস বজায় রাখুন। ৩. শ্বাসকষ্ট হলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে সতর্ক থাকাই এই মুহূর্তে সংক্রমণ রোখার সেরা উপায়।