“ফিরে আসুন, বিচার হোক!”-হাসিনার প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল BNP সরকার

দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গলবার প্রথমবার প্রতিক্রিয়া জানাল বাংলাদেশের বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, হাসিনার দেশে ফেরার সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানায়, তবে তাঁকে আইন ও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া: তারেক রহমানের তথ্য ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান এ বিষয়ে বলেন, “আমরা শেখ হাসিনার ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। দেশের মানুষ চায়, অপরাধের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে যে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে তা কার্যকর হোক বা বিচারপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হোক।” তিনি আরও যোগ করেন, “তিনি (হাসিনা) বিশ্বের সেরা আইনজীবীদের নিয়ে আসতে পারেন, তাতে সরকারের কোনো আপত্তি নেই।”
আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত: হাসিনার বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মামলা দায়ের করেছিল এবং আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। তবে হাসিনা এই সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। এ প্রসঙ্গে জাহিদ উর রহমান বলেন, “আদালত চাইলে রায় পুনর্বিবেচনা করতে পারে কিংবা তাঁকে খালাসও দিতে পারে। আইনের পথে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে সরকারের ওপর কোনো চাপ নেই।”
পটভূমি: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে এক বিশাল গণঅভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং হাসিনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যেই বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইচ্ছা ও সরকারের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দিল্লি ও ঢাকার পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতির দিকে ভারত সরকার কীভাবে নজর রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।