গামছা না তোয়ালে? স্নানের পর শরীর মুছতে কোনটা বেশি স্বাস্থ্যকর? জানুন বিজ্ঞান কী বলছে

স্নানের পর শরীর মোছার জন্য আধুনিক বিলাসবহুল তোয়ালে বা বাথ টাওয়েল আমাদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু আমাদের চিরচেনা লাল-নীল চেক কাটা সুতির গামছা কি সত্যিই বেশি উপকারী? সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই বিষয়ে একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন, যা আপনার পছন্দ বদলে দিতে পারে।
কেন তোয়ালে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে?
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তোয়ালে মূলত ঘন ‘টেরি ক্লথ’ (Terry Cloth) বা পলিয়েস্টার মিশ্রিত সুতোয় তৈরি হয়। এর বুনন ঘন হওয়ায় জল শোষণ ক্ষমতা বেশি হলেও, এটি সহজে শুকায় না। বাথরুমের মতো স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ভেজা তোয়ালে দীর্ঘক্ষণ থাকলে তাতে ই-কোলাই (E. coli) বা স্টাফাইলোকক্কাসের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে, যা ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
গামছার গুণাগুণ কেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী?
১. ব্যাকটেরিয়া মুক্ত: গামছা শতভাগ খাঁটি সুতি দিয়ে তৈরি এবং এর বুনন পাতলা হওয়ায় দ্রুত শুকিয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, তোয়ালের তুলনায় গামছায় জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ৬০ শতাংশ কম।
২. প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর: গামছার হালকা খসখসে ভাব ত্বকের মরা চামড়া (Dead Skin Cell) ও রোমকূপের ময়লা দূর করতে সাহায্য করে, যা রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
৩. ব্রণ ও র্যাশ নিয়ন্ত্রণ: চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ব্রণের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য গামছা বেশি নিরাপদ। কারণ, ভারী তোয়ালের ফাঙ্গাস ত্বকে ছড়িয়ে ব্রণ ও অ্যালার্জি বাড়াতে পারে।
৪. রক্ষণাবেক্ষণ: গামছা পাতলা হওয়ায় প্রতিদিন ধোয়া ও কড়া রোদে শুকানো অনেক সহজ, যা তোয়ালের ক্ষেত্রে সময়সাপেক্ষ।
আবহাওয়ার নিরিখে গামছাই সেরা:
গবেষকদের মতে, ভারতের মতো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় (Tropical) দেশগুলোতে, যেখানে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি, সেখানে ভারী তোয়ালের চেয়ে হালকা সুতির গামছাই স্বাস্থ্যের জন্য বেশি হাইজেনিক।