৩৫-এর পরে মা হওয়ার পরিকল্পনা? সুরক্ষিত গর্ভাবস্থার জন্য এই ৫টি পরীক্ষা করিয়েছেন তো?

ক্যারিয়ার বা জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে আজকাল অনেকেই একটু দেরিতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সে গর্ভধারণকে বলা হয় ‘অ্যাডভান্সড ম্যাটারনাল এজ’। এই বয়সে গর্ভাবস্থায় কিছু ঝুঁকি যেমন—মিসক্যারেজ, শিশুর ক্রোমোজোমজনিত সমস্যা বা মায়ের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তবে সঠিক ডাক্তারি পরামর্শ ও নিয়ম মেনে চললে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
মা হওয়ার আগে যে ৫টি পরীক্ষা করা অপরিহার্য:
১. ফার্টিলিটি ও ওভারিয়ান রিজার্ভ: ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমান বুঝতে এই পরীক্ষা জরুরি। AMH (অ্যান্টি-মুলারিয়ান হরমোন), FSH এবং আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে AFC (অ্যান্ট্রাল ফলিকল কাউন্ট) পরীক্ষা করা হয়। এটি প্রেগন্যান্সির সঠিক পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে।
২. থাইরয়েড ও হরমোন টেস্ট: থাইরয়েডের সমস্যা ওভিউলেশনে বাধা দেয় এবং মিসক্যারেজের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই TSH, T3, T4 প্রোফাইল টেস্ট করানো খুব জরুরি, বিশেষ করে যাদের পিরিয়ড অনিয়মিত বা ওজন বেশি।
৩. ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেশার: গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes) ও উচ্চ রক্তচাপ এড়াতে আগে থেকেই HbA1c এবং ফাস্টিং গ্লুকোজ টেস্টের মাধ্যমে সুগার ও প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।
৪. পুষ্টির ঘাটতি নির্ণয়: শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা জানতে ফেরিটিন, হিমোগ্লোবিন, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা পরীক্ষা করা দরকার। পুষ্টির অভাবে অ্যানিমিয়া বা শিশুর বিকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৫. রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ ও ইনফেকশন স্ক্রিনিং: জরায়ু বা ডিম্বাশয়ে কোনো টিউমার বা সিস্ট আছে কি না, তা জানতে পেলভিক আলট্রাসাউন্ড জরুরি। পাশাপাশি, রুবেলা, হেপাটাইটিস বি, সি এবং এইচআইভি-র মতো ইনফেকশন স্ক্রিনিং করানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকের পরামর্শ:
পরিসংখ্যান বলছে, ৩৫-এর পরে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কিছুটা কম হলেও সঠিক স্ক্রিনিং ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুর জন্মগত ত্রুটি আগে থেকে শনাক্ত করা সম্ভব। গর্ভধারণের অন্তত তিন থেকে ছয় মাস আগে থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ফলিক অ্যাসিডসহ প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট শুরু করা সুস্থ মাতৃত্বের জন্য অত্যন্ত জরুরি।