দুধের প্যাকেটে ডিটারজেন্ট! ২.৩ কোটি লিটার ভেজাল দুধের কারবার ফাঁস, আপনিও খাচ্ছেন না তো?

“বাংলায় আর খাঁটি দুধ পাওয়া মুশকিল”—সম্প্রতি কলকাতার এক বিখ্যাত মিষ্টি বিপণীর কর্ণধার যে আশঙ্কার কথা শুনিয়েছিলেন, তা যে কেবল অতিরঞ্জিত নয়, তার প্রমাণ মিলল মহারাষ্ট্রে। দুধের নামে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে সাধারণ মানুষকে ডিটারজেন্ট ও রাসায়নিক মেশানো ‘বিষ’ খাওয়ানো হচ্ছিল। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের ধারাশিব জেলায় এই ভয়াবহ সিন্থেটিক দুধের কারবারের পর্দাফাঁস হতেই শোরগোল পড়ে গেছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরে।

কীভাবে তৈরি হচ্ছিল এই ‘বিষাক্ত’ দুধ?
তদন্তকারী পুলিশ ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের যৌথ তল্লাশিতে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দুধের ঘনত্ব এবং ফ্যাটের পরিমাণ ঠিক রাখতে তাতে মেশানো হচ্ছিল:

ডিটারজেন্ট পাউডার (নির্মা)

পাম অয়েল

নিম্নমানের রাসায়নিক পাউডার

গত ছয় মাসে প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার ৪৭০ কেজি নিম্নমানের দুধের গুঁড়ো ব্যবহার করে আনুমানিক ২৩ লক্ষ ৪ হাজার ৭০ লিটার কৃত্রিম দুধ তৈরি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই দুধ শরীরের জন্য কতটা বিপজ্জনক তা কল্পনার বাইরে।

স্বাস্থ্যের ওপর কতটা প্রভাব?
দীর্ঘদিন এই ধরনের দুধ খেলে শরীরের অন্দরে যে মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, তা হলো:

লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট হওয়া।

পরিণত হতে পারে দুরারোগ্য ব্যাধিতে।

শিশু, গর্ভবতী নারী ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কীভাবে চলত চক্রটি?
তদন্তে জানা গেছে, পশুখাদ্য বিক্রির আড়ালে বালাসাহেব গডগে নামের এক ব্যক্তি এই পুরো চক্রটি পরিচালনা করত। ভূম তালুকা, যা দুধ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত, সেখান থেকেই প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার ভেজাল দুধ বিভিন্ন সংস্থায় সরবরাহ করা হতো। প্রতি ১০০ লিটার খাঁটি দুধে ১০ লিটার করে কৃত্রিম দুধ মিশিয়ে তা বাজারে ছাড়া হতো। এর বাজারমূল্য ৯ কোটি টাকারও বেশি!

প্রশাসনের পদক্ষেপ:
ঘটনায় সাতজনের বিরুদ্ধে কঠোর মামলা দায়ের হয়েছে। তবে আটদিন পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তরা অধরা। তাদের ধরতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার সংস্থান রয়েছে আইন অনুযায়ী।

সতর্কতা:
কলকাতার বিখ্যাত মিষ্টি ব্যবসায়ীর কথার সূত্র ধরেই এখন প্রশ্ন উঠছে, আপনার বাড়ির গ্লাসে থাকা দুধটি কি সত্যিই খাঁটি? নাকি আমাদের অজান্তেই প্রতিদিন পেটে যাচ্ছে ডিটারজেন্ট? প্রশাসন সতর্ক থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদেরও এখন থেকে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *