‘সব শেষ করে দিয়ে গেছেন আগের সরকার!’ বনদপ্তরের বেহাল দশা নিয়ে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যের বনদপ্তরের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন বনদপ্তরে নিয়োগ নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তা রুখতে এবার থেকে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগের নির্দেশ দিলেন তিনি। মঙ্গলবার সল্টলেকের বনবিতানে অরণ্য উৎসবের উদ্বোধন করতে এসে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
নিয়োগে এবার পুলিশি ছোঁয়া:
বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁকে পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বনদপ্তরে কর্মীর অভাব এবং পরিকাঠামোর দৈন্যদশা দূর করতে দ্রুত নতুন নিয়োগ করা হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে, তার জন্য এখন থেকে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতীতে বন সহায়কের মতো পদে নিয়োগের সময় যে অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে তা দূর হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ:
নিয়োগ প্রক্রিয়ার ঘোষণার পাশাপাশি বিগত তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সবকিছু লুটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বন-জঙ্গল বলে কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি আগের সরকার। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের মতো এলাকা, যা অরণ্য সুন্দরী হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানেও জঙ্গল ধ্বংস করা হয়েছে।” আকাশপথে রাজ্যের জঙ্গল পরিদর্শনের সময় যে করুণ চিত্র চোখে পড়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সবুজায়নে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা:
অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে রাজ্যে ৭ কোটি ৫০ লক্ষ গাছ লাগানোর এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। এই লক্ষ্য পূরণে পঞ্চায়েত সদস্যদের ১ হাজারটি এবং বিধায়কদের ১ লক্ষটি করে গাছ লাগানোর টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?
উল্লেখ্য, বিগত দিনে বন সহায়কের মতো পদে প্রায় দু’হাজার নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে পুনরায় ইন্টারভিউয়ের নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর, পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগের এই ঘোষণা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন দিশা দেখাবে বলেই আশাবাদী সাধারণ মানুষ ও চাকরিপ্রার্থীরা।
মুখ্যসচিবের কাছে শূন্যপদের তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, রাজ্যের বনসম্পদ রক্ষা ও দপ্তরের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে তিনি কোনো আপস করতে রাজি নন।