ভারতীয় বাজারে কি ফের ‘আচ্ছে দিন’? এক সপ্তাহে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে তুঙ্গে বাজার!

ভারতীয় শেয়ার বাজারের আকাশে ফের আস্থার সূর্যোদয়। বেশ কিছু সময় সতর্ক থাকার পর ফের ভারতীয় বাজারে বিপুল বিনিয়োগ শুরু করেছেন বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII)। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের শেয়ার কিনেছেন তারা, যা জুন ২০২৫-এর পর থেকে সর্বোচ্চ।
কেন ফিরল আস্থা?
টানা চার সপ্তাহ ধরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজারে নিট ক্রেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। এই বিপুল পরিমাণ তহবিলের প্রবাহের নেপথ্যে কয়েকটি জোরালো কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা:
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, ভারতের অর্থনৈতিক চিত্র গত কয়েক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।
রুপির স্বস্তি: ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মূল্য স্থিতিশীল হওয়া এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হ্রাস পাওয়া বিনিয়োগকারীদের ভরসা জুগিয়েছে।
কর্পোরেট আয়: শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি এবং দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভালো মুনাফার প্রত্যাশা বাজারের প্রতি বিদেশি আগ্রহ বাড়িয়েছে। সিটিগ্রুপের মতে, বর্তমান বাজার মূল্যায়ন যথেষ্ট যৌক্তিক এবং ঝুঁকির তুলনায় লাভের সম্ভাবনা বেশি।
সূচকের বড় উত্থান:
বিদেশি ফান্ডের এই প্রত্যাবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সূচকের ওপর। এপ্রিলে এক বছরের সর্বনিম্ন স্তরে নামার পর থেকে নিফটি ৫০ সূচক ইতিমধ্যেই প্রায় ৮ শতাংশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি অবশ্যই একটি স্বস্তির খবর, কারণ বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে সরাসরি উপকৃত হয় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও এবং মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন।
ছবিটা কতটা রঙিন?
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। তথ্য বলছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চলতি বছরের শুরু থেকে এখনো প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের শেয়ারের নিট বিক্রেতা হিসেবে রয়েছেন। অর্থাৎ, এই চার সপ্তাহের তেজিভাব অত্যন্ত ইতিবাচক হলেও, বাজারে দীর্ঘমেয়াদী পূর্ণাঙ্গ স্থিতিশীলতা ফিরতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞের সতর্কতা:
শেয়ার বাজার বর্তমানে প্রাণবন্ত হলেও বিনিয়োগকারীদের মনে রাখা জরুরি যে, বাজার সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আবেগপ্রবণ হয়ে বিনিয়োগ না করে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের দিকে নজর দেওয়া এবং বাজার বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।