বিজ্ঞপ্তি জারি তবুও মিলছে না বকেয়া ডিএ! ক্ষোভে ফুঁসছেন সরকারি কর্মীরা, প্রশ্ন তুলে দিলেন মলয় মুখোপাধ্যায়

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) মামলা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে মেটানোর উদ্যোগ নিলেও, বাস্তবে মাঠপর্যায়ে গিয়ে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। সম্প্রতি কলকাতা পৌর কর্পোরেশন (KMC) এলাকায় বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও হাতে টাকা না আসায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কর্মচারী সংগঠন ‘কনফেডারেশন অফ স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজ’।

কী অভিযোগ কনফেডারেশনের?
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত ৭ জুলাই ২০২৬ সালে কেএমসি এলাকার পেনশনভোগীদের জন্য বকেয়া ডিএ প্রদানের আদেশনামা প্রকাশিত হয়। কিন্তু ১৩ জুলাই পর্যন্ত টাকা না মেলায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “আদেশনামা জারি হলেও কেন এখনও বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ পেলেন না সংশ্লিষ্টরা? আসলে হচ্ছেটা কী?” তিনি বিজ্ঞপ্তির প্রতিলিপি শেয়ার করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

সরকারের অবস্থান ও জটিলতা:
উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ সময়কালের বকেয়া ডিএ মেটানোর বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কেএমসি এলাকায় বসবাসকারী বহু পেনশনভোগীর পুরনো পেনশন বিতরণের তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলিতে সংরক্ষিত নেই। এই তথ্যগত অসংগতির কারণেই বকেয়া ডিএ প্রদান আটকে ছিল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ওই সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার আনুমানিক হিসেবের ৫০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রদান করা হবে। কিন্তু সরকারি এই ঘোষণার প্রায় এক সপ্তাহ পরেও পাওনা টাকা না পাওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ:
পেনশনভোগীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকার দ্রুত এই বকেয়া টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করবে কি না, এখন সেটাই দেখার। প্রশাসনের তরফ থেকে এই বিলম্বের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনও দেওয়া হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *