৪২টি নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের সমান জমি বেহাত! বিপাকে ভারতীয় রেল, বাড়ছে উদ্বেগ

ভারতীয় রেলের সম্পদ মানেই দেশের সম্পদ। কিন্তু সেই বিপুল সরকারি সম্পত্তিই এখন চরম সংকটের মুখে। আরটিআই (RTI) মারফত পাওয়া সাম্প্রতিক তথ্যে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর চিত্র—দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রেলের ১,০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি বর্তমানে অবৈধভাবে জবরদখলকারীদের কবজায়। এই বেদখল জমির পরিমাণ এতটাই যে, আহমেদাবাদের বিখ্যাত নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের মতো ৪২টি স্টেডিয়াম অনায়াসেই তৈরি করা সম্ভব!
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জবরদখলের পরিসংখ্যান: রেল বোর্ডের তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে রেলের জমি দখলের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ২০২২-২৩ সালের তুলনায় ২০২৩-২৪ সালে জবরদখল প্রায় ২৬৮ হেক্টর বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তথ্যের এই বিপুল ফারাক রেলের সুরক্ষা ও পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
একনজরে গত ৫ বছরের বেহাল দশা:
-
২০২০-২১: ৮১০.৩১ হেক্টর
-
২০২১-২২: ৭৮২.৮১ হেক্টর
-
২০২৩-২৪: ১,০৭৮.৫৫ হেক্টর
-
২০২৪-২৫: ১,০৬৮.৫৪ হেক্টর
কেন এই পরিস্থিতি চিন্তার কারণ? ভারতীয় রেলের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৪.৯৯ লক্ষ হেক্টর। শতাংশের বিচারে বেদখল হওয়া জমির পরিমাণ ০.২১ শতাংশ মনে হলেও, বাস্তবে এই বিশাল জায়গা নতুন রেললাইন বসানো, মালবাহী টার্মিনাল নির্মাণ কিংবা যাত্রী পরিষেবার আধুনিকীকরণে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রেল মন্ত্রকের দাবি, উদ্ধার হওয়া জমি রেলের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য কাজে লাগানো হবে। গত পাঁচ বছরে ৯৮.০২ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করা সম্ভব হলেও, নতুন জবরদখলের তুলনায় এই সংখ্যা নগণ্য।
তথ্য গোপন নাকি গাফিলতি? সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, কেন্দ্রীয় রেল বোর্ডের কাছে সারা দেশের জবরদখলের কোনো নির্দিষ্ট রাজ্যভিত্তিক ডেটাবেস নেই। আরটিআই আবেদনে ২৫ বছরের তথ্য চাওয়া হলেও, বোর্ড মাত্র ৫ বছরের তথ্য সরবরাহ করেছে। রেলের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় তথ্যের অভাব সমস্যাটির গভীরে পৌঁছাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবিষ্যতে নতুন রেল প্রকল্প বাস্তবায়নে এই ভূমি-সংকট কতটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে রেল বিশেষজ্ঞ মহলে।