বাংলাদেশে ৮১ ফুট রাম মূর্তি তৈরির জের? গ্রেফতার মন্দিরের প্রধান উদ্যোক্তা হরিদাস

বাংলাদেশে ৮১ ফুট উঁচু রাম মূর্তি তৈরির পরিকল্পনার পরই শিরোনামে উঠে আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেফতার করল সেদেশের গোয়েন্দা বাহিনী। সোমবার ভোররাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় সিআইডি। তাঁর বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকারও বেশি মানি লন্ডারিং এবং হাওয়ালার মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গ্রেফতারি ও আদালতের নির্দেশ: গাইবান্ধা থেকে গ্রেফতারের পর হরিদাস চন্দ্রকে ঢাকায় মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সোমবার আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। সিআইডির দাবি, অভিযুক্ত ও তাঁর সহযোগীরা অসাধু উপায়ে উপার্জিত অর্থ নামে-বেনামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদে বিনিয়োগ করেছেন।

কী দাবি হরিদাসের? আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে হরিদাস চন্দ্র প্রশ্ন তোলেন, “ভগবানের সন্তুষ্টির জন্য ভক্তদের দেওয়া অর্থ মন্দিরের কাজে ব্যবহার করা কি পাপ? আমি কোনো অর্থ পাচার করিনি।” বিগত দুই মাস তিনি কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন বলেও জানা গেছে।

প্রতিবাদ ও ক্ষোভের উত্তাপ: এই গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’। সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক হুমকির শিকার হরিদাসকে গ্রেফতার গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। স্থানীয় সংখ্যালঘুদের বড় অংশের মতে, রাম মূর্তি নির্মাণের কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৯ জুন ইমাম ওলামা পরিষদের আন্দোলনের মুখে মূর্তি নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে স্থগিত করা হয়েছিল।

চিন্ময়কৃষ্ণের ছায়া? এই গ্রেফতারির পর থেকেই বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেরই মনে পড়ছে চট্টগ্রাম কারাগারের বন্দি সাধু চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের কথা। একের পর এক মামলা এবং জামিন না পাওয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হরিদাস চন্দ্রের ক্ষেত্রেও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় হিন্দুরা।

পলাশবাড়ির রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের প্রধান হিসেবে পরিচিত হরিদাস চন্দ্র এর আগেও মন্দির প্রাঙ্গণে শিব ও কৃষ্ণের বিশাল মূর্তি নির্মাণ করে আলোচনায় এসেছিলেন। এখন দেখার, এই গ্রেফতারির পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ কোন দিকে মোড় নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *