প্রতিরক্ষায় নয়া মাইলফলক: ১,০০০ কিমি পাল্লার ড্রোন তৈরির জন্য দেশীয় সংস্থার খোঁজে সেনাবাহিনী

ভারতীয় সেনাবাহিনী এবার দীর্ঘ পাল্লার ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ বা একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করল। এই ড্রোনগুলো বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এগুলো ১,০০০ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের ‘মেক-২’ (Make II) নীতির অধীনে এই বিশেষ প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে।
ড্রোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সক্ষমতা: সেনাবাহিনীর চাহিদামত এই ড্রোনগুলোকে নিম্নলিখিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে:
-
পাল্লা: ১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করতে সক্ষম।
-
এআই সক্ষমতা: ড্রোনগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ভিত্তিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে পারদর্শী হবে।
-
জিপিএস-হীন পরিবেশে কাজ: জিপিএস (GPS) ব্যবস্থা কাজ না করলেও নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারবে।
-
অস্ত্রবহন ক্ষমতা: ড্রোনটিতে ২৫ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বা বিস্ফোরক বহনের সক্ষমতা থাকতে হবে।
-
বিধ্বংসী ক্ষমতা: ৫০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে এটি ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে।
-
উড্ডয়ন ও গতি: ৫,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় উড়তে পারবে এবং এর গতিবেগ হবে কমপক্ষে ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটার।
প্রকল্পের গুরুত্ব: এই ড্রোনগুলো সমভূমি, মরুভূমি, ঘন বনভূমি এবং পার্বত্য অঞ্চলের মতো বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক পরিবেশে কার্যকরভাবে কাজ করার উপযোগী করে তৈরি করা হবে। প্রতিরক্ষা নীতি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়নের (R&D) খরচ বহন করতে হবে, তবে ড্রোনগুলো সফলভাবে মানদণ্ড পূরণ করলে সেনাবাহিনী তা কেনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
এর পাশাপাশি, ‘রেজিমেন্ট অফ আর্টিলারি’ ১০০ কিলোমিটার পাল্লার ৮৫০টি ড্রোন সংগ্রহের জন্যও কাজ শুরু করেছে। এক্ষেত্রে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড এবং নিবে ডিফেন্স-এর মতো সংস্থাকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে এই ড্রোনগুলোর সংযোজন প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।