জন্মদিনেই মৃত্যু! স্কুটার থামিয়ে স্কুল শিক্ষিকাকে গুলি করে খুন করলেন পুলিশকর্মী স্বামী

জন্মদিন উদযাপনের বদলে এল মৃত্যুর পরোয়ানা। স্ত্রী যখন নিজের জন্মদিন পালন করার কথা ভাবছিলেন, তখনই আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাঁকে গুলি করে খুন করলেন স্বামী। সোমবার সকালে দিল্লির কল্যাণপুরী এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি দিল্লির পুলিশকর্মী বলে জানা গেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার ভোরের দিকে অভিযুক্ত মণীশ ভাটি তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে স্কুটারে করে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথে কল্যাণপুরী এলাকায় স্কুটারের উপরই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। ঝগড়া চরমে পৌঁছালে মণীশ রাস্তার মাঝেই স্কুটার থামিয়ে দেন। এরপর দুজনেই গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তর্ক করতে শুরু করেন। অভিযোগ, সেই সময় হঠাতই মণীশ তাঁর সার্ভিস রিভলবার বা পিস্তল বের করে স্ত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। ঘটনাটি ঘটিয়েই অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পথচারীর তৎপরতায় হাসপাতালে ভর্তি
ঘটনাটি দেখার পর এক ডেলিভারি বয় দ্রুত এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রিয়াঙ্কাকে উদ্ধার করেন। তাঁকে তড়িঘড়ি পূর্ব দিল্লির লাল বাহাদুর শাস্ত্রী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা বিফলে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালেই মৃত্যু হয় ওই তরুণীর।
আসামি ও মৃতার পরিচয়
নিহত প্রিয়াঙ্কা পেশায় ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষিকা। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মণীশ ভাটি দিল্লি পুলিশের অ্যান্টি-অটো থেফট স্কোয়াড (AATS)-এ কর্মরত। সব থেকে মর্মান্তিক বিষয় হলো, সোমবার ছিল প্রিয়াঙ্কার জন্মদিন। জীবনের বিশেষ এই দিনেই স্বামীর হাতে নৃশংসভাবে প্রাণ দিতে হলো তাঁকে।
তদন্তে পুলিশ
খবর পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। অভিযুক্ত মণীশ ভাটির বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে এবং তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি পাঠানো হয়েছে, রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার আরও বিস্তারিত জানা যাবে। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে স্থানীয় থানার পুলিশ।