টাকার বিনিময়ে চাকরি মামলায় বিরাট মোড়! প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার ভাগ্য নির্ধারণ করল হাইকোর্ট!

গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকে বাঁচতে শেষমেশ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী তথা সবংয়ের হেভিওয়েট নেতা মানস ভুঁইয়া। অবশেষে আদালত থেকে তিনি রক্ষাকবচ পেলেও, তাঁর ওপর চাপানো হলো একগুচ্ছ কঠিন শর্ত। টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সোমবার এই তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিয়েছে।

আদালতের রক্ষাকবচ, কিন্তু মানতে হবে ৪টি কড়া শর্ত!
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তদন্ত চলাকালীন প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া সহ মামলার বাকি অভিযুক্তদের আপাতত গ্রেফতার করা যাবে না। তবে এই স্বস্তির পাশাপাশি আদালত নিম্নলিখিত ৪টি কড়া শর্ত আরোপ করেছে:

তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা: চাকরি কেলেঙ্কারির এই মামলায় পুলিশি তদন্তে মানস বাবুকে পুরোপুরি সহযোগিতা করতে হবে।

পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত: রাজ্যের বাইরে বা বিদেশে পালানোর পথ বন্ধ করতে প্রাক্তন মন্ত্রীর পাসপোর্ট অবিলম্বে পুলিশের কাছে জমা রাখতে হবে।

এলাকা ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা: আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র সবংয়ের বাইরে যেতে পারবেন না মানস ভুঁইয়া।

তলবে হাজিরা: তদন্তকারী আধিকারিকরা যখনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকবেন, তখনই তাঁকে হাজিরা দিতে হবে।

সেচ দফতরের বাংলোয় ৫ লাখের চাকরি! কী এই মামলা?
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের প্রথম সারির ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত নেতা ছিলেন মানস ভুঁইয়া। তৃণমূল জমানায় সেচমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো সবংয়ের এই সাত বারের বিধায়ক অবশ্য সম্প্রতি দল ছেড়েছেন। দল ছাড়ার পরই তাঁর বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার এক মারাত্মক অভিযোগ দায়ের হয় সবং থানায়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জনৈক এক অভিযোগকারীর দাবি— সেচ দফতরের বাংলোতে চাকরি করে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। আর তার বিনিময়ে চাওয়া হয়েছিল ৫ লক্ষ টাকা।

রেজিস্টারে সই ও বেতন বন্ধের রহস্য:
টাকা দেওয়ার পর চাকরি পেয়ে ওই অভিযোগকারীর স্ত্রী খাতায় সই করে মার্চ মাসের বেতন হিসেবে প্রায় ১১ হাজার টাকাও পেয়েছিলেন। কিন্তু গোলমাল বাঁধে মে মাসে। গত ৬ মে ওই মহিলা কাজে গেলে তাঁকে আর রেজিস্টারে সই করতে দেওয়া হয়নি এবং কাজ থেকে আচমকা বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে ওই পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়। সবং থানার পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩১৮(৪) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দল ছাড়ার পরপরই মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে এমন কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের মামলা এবং হাইকোর্টের এই কঠোর শর্তসাপেক্ষ নির্দেশ তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *