মার্শাল আর্ট শেখানোর নামে হস্টেলে চরম অসভ্যতা! ক্যারাটে স্যারের আসল রূপ ফাঁস হতেই তোলপাড় দক্ষিণ কলকাতা!

দক্ষিণ কলকাতার সার্ভে পার্ক থানা এলাকার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (NGO) পরিচালিত আবাসিক হস্টেলে নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ক্যারাটে ও কুংফু শেখানোর আড়ালে দিনের পর দিন এক আবাসিক নাবালিকাকে যৌন নিগ্রহ করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ওই এনজিও-র কোষাধ্যক্ষ তথা মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক প্রসেনজিৎ দাসকে। শনিবার রাতে সার্ভে পার্ক থানার পুলিশ তাকে জালে তোলে।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নির্যাতিতা শুধু একজন নয়, হস্টেলের আরও বেশ কয়েকজন আবাসিক কিশোরীও ওই ব্যক্তির লালসার শিকার হয়ে থাকতে পারে।

প্রশিক্ষণের আড়ালে চলত নির্যাতন
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত প্রসেনজিৎ দাস এনজিও-টির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পাশাপাশি হস্টেলের মেয়েদের মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ দিত। অভিযোগ, আত্মরক্ষার পাঠ দেওয়ার অছিলাতেই সে নাবালিকাদের শরীরে আপত্তিকরভাবে হাত দিত। এরপর বিশেষ ক্লাসের নাম করে হস্টেলের নির্জন কোণায় ডেকে নিয়ে গিয়ে চলত যৌন নির্যাতন।

নির্যাতিত এক নাবালিকার বয়ান অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে তার ওপর প্রথম এই অত্যাচার শুরু হয় এবং টানা চার মাস ধরে চলে। এই বিষয়ে মুখ খুললে তাকে ভয় দেখানো এবং মারাত্মক হুমকিও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।

শিক্ষকের তৎপরতায় পর্দাফাঁস
দিনের পর দিন চলা এই নারকীয় অত্যাচারের জেরে তীব্র আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিল ওই নাবালিকা। লোকলজ্জা আর ভয়ে বিষয়টি সে কাউকে জানাতে পারেনি। তবে সম্প্রতি তার আচরণে এক অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন হস্টেলেরই এক শিক্ষক। তিনি সহানুভূতির সঙ্গে জেরা করতেই শিক্ষকের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে ওই কিশোরী এবং নিজের ওপর হওয়া সমস্ত অত্যাচারের কথা খুলে বলে।

এরপরই হস্টেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর যায় চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (CWC)-র কাছে। সিডব্লুসি-র প্রতিনিধিরা দ্রুত হস্টেলে গিয়ে নাবালিকার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাকে অন্য একটি সরকারি হোমে স্থানান্তরিত করা হয়।

আইনি পদক্ষেপ ও জিরো এফআইআর
আইনি প্রক্রিয়া মেনে প্রথমে কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থল সার্ভে পার্ক থানা এলাকার মধ্যে হওয়ায়, রবীন্দ্র সরোবর থানা একটি ‘জিরো এফআইআর’ (Zero FIR) দায়ের করে মামলাটি সার্ভে পার্ক থানায় স্থানান্তর করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ শনিবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

ধৃত প্রসেনজিৎ দাসের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনসহ একাধিক জামিনঅযোগ্য ও কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হস্টেলের বাকি মেয়েদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে, যাতে জানা যায় আর কেউ এই নির্যাতনের শিকার হয়েছে কি না। পাশাপাশি, এই গোটা ঘটনায় এনজিও কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তথ্য সামনে আসতে কেন এত দেরি হলো, সেই ভূমিকাও কড়া নজরে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *