বিচ্ছেদে আর সম্পত্তি ভাগ নয়? চিনে বিবাহবিচ্ছেদ আইনে বড়সড় বদল, তুঙ্গে বিতর্ক!

বিবাহবিচ্ছেদের নিয়মে বড়সড় রদবদল আনল চিন সরকার। এতদিন বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সম্পত্তি সমানভাগে (৫০-৫০) ভাগ করে দেওয়ার যে চল ছিল, নতুন আইনে তার ইতি টানা হয়েছে। এখন থেকে বিচ্ছেদের সময় শুধুমাত্র নিজের কেনা বা অর্জিত সম্পত্তিতেই অধিকার থাকবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির। এই কঠোর আইনের ফলে চিনে বিবাহবিচ্ছেদের হার অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছে শি জিনপিং সরকার।

কী পরিবর্তন এল নতুন আইনে?
চিন সরকারের নতুন সংশোধনী অনুযায়ী:

ব্যক্তিগত সম্পত্তি: বিয়ের আগে পুরুষের যে সম্পত্তি (বাড়ি, গাড়ি বা ব্যবসা) ছিল, তা সম্পূর্ণভাবে তাঁর নিজস্ব ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবেই গণ্য হবে। বিচ্ছেদের সময় স্ত্রী তার ওপর কোনো দাবি জানাতে পারবেন না।

অবদানের ভিত্তিতে ভাগ: বিয়ের পর যৌথভাবে কেনা বা তৈরি করা সম্পত্তির ক্ষেত্রেও এখন থেকে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য। এখন থেকে সম্পত্তি ভাগ হবে ওই সম্পত্তিতে কার কতটা আর্থিক অবদান ছিল, তার অনুপাতে।

চিন সরকারের লক্ষ্য:
দেশটিতে গত কয়েক বছরে বিবাহবিচ্ছেদের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের অভিযোগ, অনেকে কেবলমাত্র বিচ্ছেদের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিয়ে করছেন। নতুন এই আইনের ফলে ‘সুবিধাবাদী’ বিবাহবিচ্ছেদ কমবে এবং বিবাহিত জীবন আরও দায়িত্বশীল ও স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রশাসনের।

নারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিতর্ক:
আইনটি নিয়ে চিনের নারী মহলে রীতিমতো অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন বহু নারী। সমালোচকদের মতে, গৃহস্থালির কাজ, সন্তান লালন-পালন বা কর্মক্ষেত্রে স্বামীর পাশে দাঁড়ানোকে এই আইনে উপেক্ষা করা হয়েছে।

এক নেটিজেন লিখেছেন, “সংসার সামলানো কি কোনো অবদান নয়? শুধুমাত্র টাকার অঙ্কে অবদান মাপা যায় না।” অনেক সমাজকর্মী ও নারী অধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, এই আইনের ফলে যেসব নারী গৃহিণী হিসেবে সংসার সামলান, তাঁরা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিকভাবে চরম অসহায় অবস্থার মুখে পড়বেন। আইনটি পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *