নামে ‘ফ্রেঞ্চ’ কিন্তু জন্ম কোথায়? ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের উৎস নিয়ে আজও কেন বিতর্ক?

গরম, মুচমুচে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস—নাম শুনলেই জিভে জল আসে। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই জনপ্রিয় স্ন্যাক্সের নামের সঙ্গে ‘ফ্রেঞ্চ’ শব্দটি থাকলেও এর আসল উৎস নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে চলছে দীর্ঘদিনের লড়াই? ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং স্পেন—এই তিন দেশই দশকের পর দশক ধরে এই খাবারের আবিষ্কারক হওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

জন্ম নিয়ে প্রচলিত গল্পগুলো:
বেলজিয়ামের দাবি: মিউজ নদীর তীরের বাসিন্দারা শীতকালে মাছের বিকল্প হিসেবে লম্বা করে কাটা আলু তেলে ভেজে খাওয়া শুরু করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকান সৈন্যরা বেলজিয়ামের ফরাসি ভাষাভাষী মানুষের কাছে এই খাবারটি প্রথমবার খান, সেখান থেকেই আমেরিকানদের মুখে এর নাম হয় ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস’।

ফ্রান্সের দাবি: ফরাসি ঐতিহাসিকদের মতে, ১৭৮০-র দশকেই প্যারিসের বিখ্যাত ‘পন্ট নিউফ’ ব্রিজের ওপর ফেরিওয়ালারা আলু ভাজা বিক্রি করতেন। ফলে এর জন্মভূমি ফ্রান্সেই।

স্পেনের দাবি: তাদের যুক্তি, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে প্রথম আলু ইউরোপে এনেছিল স্পেন, তাই আলুকে ভেজে খাওয়ার প্রথাও তাদের থেকেই শুরু।

আমেরিকায় জনপ্রিয়তা:
আমেরিকান প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসন ১৭৮০-র দশকে ফ্রান্সে থাকার সময় এই খাবারটি শিখে আমেরিকায় এর প্রচলন ঘটান। অবশ্য তৎকালীন ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস এখনকার মতো লম্বাটে ছিল না, বরং গোল বা লেবুর খোসার মতো আকৃতির হতো। ১৯২০-র দশকেই এটি বিশ্বজুড়ে ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস’ নামে পরিচিতি পায়।

ভিন্ন দেশে ভিন্ন স্বাদ:
দেশ ভেদে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস খাওয়ার ধরনেও এসেছে বৈচিত্র্য:

আমেরিকা: টমেটো কেচাপ।

ফ্রান্স: সর্ষের পেস্ট (Mustard Paste)।

ব্রিটেন: ভিনিগার।

বেলজিয়াম: মেয়োনিজ।

একটি অদ্ভুত আইনি লড়াই!
ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস নিয়ে বিতর্কের চূড়ান্ত উদাহরণ দেখা গিয়েছিল ২০০৫ সালে। একজন শিল্পী আর্ট গ্যালারিতে দুটি ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসকে ক্রুশবিদ্ধ অবস্থায় সাজিয়ে রেখেছিলেন। সেগুলো চুরি হয়ে গেলে মামলা গ্যালারি পর্যন্ত পৌঁছায় এবং আদালত শেষ পর্যন্ত গ্যালারিকে ২১ লক্ষ টাকা জরিমানাও করেছিল!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *