সূর্যপুরে অশান্তিতে উস্কানি! গ্রেফতার সিপিএমের প্রাক্তন প্রার্থী লাহেক আলি, শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর

বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে সূর্যপুরে গণপিটুনি ও অশান্তির ঘটনায় এবার রাজনৈতিক নেতার গ্রেফতারিতে শোরগোল পড়ে গেল। রবিবার রাতে সূর্যপুরে অশান্তিতে প্ররোচনা ও উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বাম প্রার্থী তথা সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কী অভিযোগ সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে?
পুলিশ সূত্রে খবর, নাবালিকার মৃত্যুর পর এলাকায় যখন উত্তাল বিক্ষোভ চলছিল, তখন রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় লাহেক আলির সরাসরি ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নরেন্দ্রপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সোমবার তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, বারুইপুর ও সূর্যপুরের ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। সেই ঘোষণার পর এটিই কোনো রাজনৈতিক নেতার প্রথম গ্রেফতারি।

রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে
এই গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাত তৈরি হয়েছে। সিপিএমের অভিযোগ, নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদ করায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন লাহেক আলি। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী ও শতরূপ ঘোষের দাবি, রাজ্য সরকার পুলিশকে কাজে লাগিয়ে এই গ্রেফতারি করিয়েছে। তাঁরা এর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

পাল্টা বিজেপির দাবি, রাজ্যে এখন আইনের শাসন চলছে। কোনো ব্যক্তি যদি হিংসা ছড়ানোর বা গণপিটুনিতে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবেই। বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধর ও প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার দাবি করেন, লাহেক আলির হিংসায় উস্কানি দেওয়ার পর্যাপ্ত ভিডিয়ো প্রমাণ রয়েছে পুলিশের কাছে।

সূর্যপুরের ঘটনায় এই গ্রেফতারি রাজনৈতিক মহলে বড়সড় বিতর্ক তৈরি করেছে। আগামী দিনে ঘটনার তদন্তে আরও কতজনের নাম উঠে আসে এবং আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *