‘রক্তের বদলে রক্ত’! ট্রাম্পকে চরম হুঁশিয়ারি খামেনির, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির আতঙ্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পারদ এবার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে গত এক সপ্তাহে ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে টানা তৃতীয়বারের মতো বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের ১২টি শহরের ১৪০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা তারা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই ‘মিশন ইরান’ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এক ভয়াবহ যুদ্ধের ছায়া ঘনিয়ে এসেছে।

ইরানের পাল্টা আঘাত: মার্কিন হামলার জবাবে চুপ করে বসে নেই ইরান। তেহরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ট্রাম্পকে নির্মূলের অঙ্গীকার করে ‘রক্তের বদলে রক্ত’ স্লোগান দিয়েছেন। ইরান ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

হরমুজ প্রণালী অবরোধ: সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন এবং বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ ইরান সম্পূর্ণভাবে অবরোধ করে ফেলেছে। বর্তমানে এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি নেই, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

অগ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্য: কোন দেশ কী বলছে?

  • ইরান: তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং বহিরাগত সামরিক চাপ না কমানো পর্যন্ত এই প্রণালী বন্ধ থাকবে। কোনো জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • উপসাগরীয় দেশসমূহ: সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে সক্রিয় হয়েছে। বাহরাইনে বেজে উঠেছে সতর্কতামূলক সাইরেন, কাতার তার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া ওমানের দুকম বন্দর থেকেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগন দাবি করেছে, তাদের বিমানঘাঁটিগুলো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে এবং ইরানের পাল্টা হামলা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশ্বনেতাদের নজর এখন হরমুজ প্রণালীর এই সংকটের দিকে। সামরিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এই সংঘাত আঞ্চলিক গণ্ডি ছাড়িয়ে এক ভয়াবহ বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *