ঋণ পেতে সমস্যা হচ্ছে? ক্রেডিট স্কোর ঠিক রাখতে এই ৫টি অভ্যাস এখনই বদলে ফেলুন

হঠাৎ টাকার প্রয়োজনে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হয়েও লোন পাচ্ছেন না? ভালো বেতন বা নিয়মিত আয় থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত ঋণের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনি আর ঋণ পাওয়ার যোগ্য নন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবই এর মূল কারণ। লোন রিজেক্ট হওয়ার পেছনে লুকানো ৫টি বড় কারণ ও তার প্রতিকারের উপায় নিচে দেওয়া হলো:

১. ক্রেডিট রিপোর্টে ভুল তথ্য: লোন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর প্রথম কাজ হলো আপনার ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই করা। অনেক সময় দেখা যায়, পুরোনো কোনো ঋণ পরিশোধ করার পরেও তা সিস্টেমে ‘সক্রিয়’ দেখাচ্ছে, অথবা ক্রেডিট কার্ডের ভুল তথ্য রয়ে গেছে। রিপোর্টটি ভালোভাবে পরীক্ষা করুন এবং কোনো ভুল থাকলে দ্রুত ক্রেডিট ব্যুরোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তা সংশোধন করুন।

২. ইএমআই ও বিল পরিশোধে অনিয়ম: ব্যাংক আপনার বর্তমান আয়ের পাশাপাশি গত কয়েক মাসের লেনদেনের ইতিহাসও খতিয়ে দেখে। আপনি কি সময়মতো ক্রেডিট কার্ডের বিল বা পুরোনো ঋণের ইএমআই (EMI) পরিশোধ করেছেন? নিয়মিত বিল পরিশোধ না করলে ব্যাংকের কাছে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যায়। সময়মতো সব অর্থ প্রদান করলে তা ধীরে ধীরে আপনার স্কোরকে মজবুত করে।

৩. অতিরিক্ত ঋণের বোঝা: আপনার আয়ের একটি বড় অংশ যদি ইতিমধ্যেই পুরোনো ঋণের কিস্তি মেটাতে চলে যায়, তবে ব্যাংকগুলো নতুন করে ঝুঁকি নিতে চায় না। একে বলা হয় ‘ডেড-টু-ইনকাম রেশিও’ (Debt-to-income ratio)। এমন অবস্থায় নতুন ঋণের আবেদন করার আগে পুরোনো ছোটখাটো দেনাগুলো মিটিয়ে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ।

৪. বারবার আবেদন করা: একটি ব্যাংক থেকে লোন না পেলেই সঙ্গে সঙ্গে অন্য ব্যাংকে আবেদন করা একটি মারাত্মক ভুল। অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক জায়গায় ঋণের জন্য আবেদন করলে আপনার ক্রেডিট প্রোফাইলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আগে প্রত্যাখ্যানের কারণটি বুঝুন, সেটি সংশোধন করুন এবং তারপর নতুন করে আবেদন করুন।

৫. ব্যাংকের শর্তাবলি না বোঝা: সব ব্যাংকের নিয়ম সমান নয়। আপনার ক্রেডিট স্কোর ভালো থাকা সত্ত্বেও চাকরির স্থায়িত্ব, মাসিক আয় বা কর্মক্ষেত্রের ক্যাটাগরি অনুযায়ী ব্যাংক ঋণের সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে। এক ব্যাংক ঋণ না দিলে অন্য ব্যাংকে দৌড়ানোর আগে জেনে নিন তাদের নির্দিষ্ট শর্তাবলি আপনার সাথে মিলছে কি না।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে এখন থেকেই সচেতন হন। নিয়মিত আপনার ক্রেডিট স্কোর চেক করুন, অপ্রয়োজনীয় ঋণের আবেদন এড়িয়ে চলুন এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখুন। মনে রাখবেন, ভালো আর্থিক অভ্যাসই আপনাকে যেকোনো জরুরি মুহূর্তে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *