নৌচলাচল কি স্বাভাবিক? হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের বড় বিবৃতি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের পথ—হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। একদিকে ইরান দাবি করছে যে, মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ডের জেরে তারা এই জলপথ বন্ধ করে দিয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রণালীটি বাণিজ্যিক নৌচলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি দাবি ইরানের পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষ (PGSA) জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’-এর কারণে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এর ঠিক বিপরীতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “প্রণালীটি বাণিজ্যিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত।” একই সুরে কথা বলেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। রবিবার এক বিবৃতিতে তারা জোর দিয়ে বলেছে, ইরান এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে না এবং সেখানে নৌচলাচল আগের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে।
সংঘাতের নেপথ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের মাত্রা তীব্র হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা বাতিল করেছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথটিও খোলা রেখেছেন। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথ বন্ধ হওয়ার যেকোনো খবর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে।
বর্তমানে উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নৌচলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।