নিজের দলের বিরুদ্ধেও লিখুন! সাংবাদিকদের সামনে ব্যতিক্রমী বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি

গণতন্ত্রে সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষায় এক সাহসী ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। কলকাতার এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সামনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সরকারের কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখলে যেমন সংবাদমাধ্যমকে সরব হতে হবে, ঠিক তেমনি তাঁর নিজের দল বিজেপির কোনো নেতা বা কর্মী যদি অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন, তবে তাঁকেও রেয়াত করা উচিত নয়।
সাংবাদিকদের প্রতি শমীকের বার্তা প্রগতিশীল রাষ্ট্রবাদী সাংবাদিক সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নির্ভীক সাংবাদিক সম্মান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। সেখানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন:
-
সত্যে আপস নয়: গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের কাজ কোনো রাজনৈতিক দলকে তুষ্ট করা নয়, বরং জনস্বার্থে সত্যকে তুলে ধরা। সত্য আড়াল করলে সাংবাদিকতার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়।
-
বিজেপি নেতাদেরও ছাড় নেই: তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন, “যদি কোনো বিজেপি নেতা, কর্মী বা দলের ছত্রছায়ায় থাকা কেউ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তাঁর নাম ও ছবিসহ খবর প্রকাশ করুন। এক্ষেত্রে কোনো আপস করার প্রয়োজন নেই।”
-
সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি, কিংবা সরকারি সম্পত্তি দখলের মতো ঘটনাগুলোতে সংবাদমাধ্যমকে নির্ভীকভাবে তথ্য-প্রমাণসহ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।
কেন এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাধারণত শাসকদলের কোনো নেতা নিজের সরকার বা দলের বিরুদ্ধে এমন কড়া সুর সাধারণত চড়ান না। সেখানে বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যকে অত্যন্ত ‘ব্যতিক্রমী’ ও রাজনৈতিকভাবে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি যে সংবাদমাধ্যমকে কোনো দলীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে নিরপেক্ষ থাকার বার্তাই দিতে চেয়েছেন, তা এই মন্তব্যে পরিষ্কার।
অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যাঁরা নির্ভীকভাবে সত্য প্রকাশ করেছেন, সেই সাংবাদিকদের সম্মানিত করা। সেই মঞ্চ থেকেই শমীক ভট্টাচার্য প্রমাণ করলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখাই বর্তমান সময়ে রাজনীতির মূল মন্ত্র হওয়া উচিত।