৫ম পে কমিশনের বকেয়া ডিএ: ২২ বা ২৩ জুলাইয়ের অপেক্ষায় সরকারি কর্মীরা, জমা দিতে হবে ‘স্টেটাস রিপোর্ট’

রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মামলার পরবর্তী শুনানি ঘিরে ফের জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন পঞ্চম পে কমিশনের এই বকেয়া সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২২ বা ২৩ জুলাই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই শুনানিকে কেন্দ্র করেই রাজ্য সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে নিজেদের পরবর্তী রণকৌশল স্পষ্ট করল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও রাজ্যের ভূমিকা গত ২৭ জুনের শুনানির পর থেকেই পরবর্তী তারিখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন কর্মীরা। সর্বোচ্চ আদালত আগেই নির্দেশ দিয়েছিল যে, পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া ডিএ-র পুরো ১০০ শতাংশই মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২৫ শতাংশ বকেয়া মেটানোর নির্দেশের পর, বাকি অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধের জন্য একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারের কাছে আদালত একটি ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ তলব করেছে। নতুন সরকারের আমলে বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে, সেই খতিয়ানই এই রিপোর্টে পেশ করতে হবে রাজ্যকে।

কর্মীদের কড়া হুঁশিয়ারি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ একটি ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, বকেয়ার ৫০ শতাংশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেটানো না হলে তারা সরাসরি ‘আদালত অবমাননা’র মামলা দায়ের করবেন। বিশেষ করে গ্র্যান্ট-ইন-এইড কর্মীরা এখনও বকেয়া থেকে বঞ্চিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। ভাস্কর ঘোষের দাবি, পরবর্তী শুনানির আগেই রাজ্যকে তাদের পদক্ষেপ ও সদিচ্ছার প্রমাণস্বরূপ রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কর্মীদের বঞ্চনার অভিযোগ পরবর্তী শুনানিতেই ফের জোরালোভাবে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পরবর্তী পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, এই মামলা নিয়ে তারা আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। কর্মীদের দাবি—একদিকে যখন বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে, অন্যদিকে তখন কর্মীদের একাংশকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে কেন? গ্র্যান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া সংক্রান্ত নোটিফিকেশন খুব দ্রুত প্রকাশ করার দাবিও জানিয়েছেন কর্মী নেতারা।

সর্বোচ্চ আদালতের কড়া নির্দেশ এবং কর্মী সংগঠনগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপ—দুই মিলিয়ে ২২ বা ২৩ জুলাইয়ের শুনানি রাজ্য সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *