বিমানবন্দর চত্বরের ১৩৬ বছরের মসজিদে বন্ধ হল নমাজ, নেপথ্যে কী কারণ?

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরনো গৌরীপুর জামা মসজিদ—যা স্থানীয়ভাবে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত—তাতে সাময়িকভাবে নমাজ পাঠ স্থগিত করা হয়েছে। মসজিদটির সংস্কার কাজের জন্য আগামী তিন দিন সেখানে প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিমানবন্দর সূত্রে খবর।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও বিধায়কের দাবি এই মসজিদটির অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে থেকে এই মসজিদের দূরত্ব মাত্র কয়েকশ মিটার। দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদারের দাবি, “বিমানবন্দরের মতো অতি সুরক্ষিত এলাকায় (লেভেল ৩ নিরাপত্তা বলয়) এই মসজিদের অবস্থান বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। এখানে যারা নমাজ পড়তে আসেন, তাদের জন্য কোনো বায়োমেট্রিক বা ছবিসহ পরিচয়পত্র যাচাইয়ের বালাই নেই।” বিধায়কের অভিযোগ, গত কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক তোষণের রাজনীতির কারণে এই সমস্যার সমাধান করা হয়নি, যার ফলে রানওয়ের পূর্ণ ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে এবং বিমান ওঠানামায় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

মসজিদ কমিটির প্রতিক্রিয়া ও তৃণমূলের অবস্থান অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, “মসজিদটি ১৩৫ বছরের বেশি পুরনো। এটি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথেই হাঁটতে চেয়েছিলাম, কিন্তু নমাজ বন্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপের কোনো প্রয়োজন ছিল না।”

সংস্কার নাকি স্থানান্তর? বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিতীয় রানওয়ের সম্প্রসারণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল রানওয়েটি কোনো কারণে বন্ধ থাকলে দ্বিতীয় রানওয়েটি ব্যবহার করা জরুরি, কিন্তু মসজিদের অবস্থানের কারণে বড় বিমান ওঠানামায় ঝুঁকি থেকে যায়। বিষয়টি নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা শাসকের দপ্তরে মসজিদ কমিটি এবং স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে।

শনিবার সকালে বিধায়ক সৌরভ শিকদার এলাকায় উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ মানুষই নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপে রাজি হয়েছেন এবং তিনি সবাইকে এই বিষয়ে কোনো প্ররোচনা না ছড়ানোর অনুরোধ করেছেন।

ঐতিহাসিক এই মসজিদটি বিমানবন্দরের সীমানার ভেতরে থাকায় এটি সরানো হবে নাকি সংস্কারের মাধ্যমে কোনো নতুন রূপরেখা তৈরি হবে, তা নিয়ে এখন বড়সড় জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের স্বপ্ন ও ধর্মীয় আবেগের এই টানাপোড়েন এখন বড় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *