TMC-থেকে কংগ্রেসে যোগদানের হিড়িক, পতাকা হাতে নিলেন প্রচুর নেতা-কর্মী

বিধানসভা ভোটের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের ধারা অব্যাহত। শনিবার হাওড়া জেলার সাঁকরাইল ব্লকে এক বড়সড় যোগদান কর্মসূচির মাধ্যমে দলটিতে বড়সড় ধাক্কা দিল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। এদিনের কর্মসূচিতে সাঁকরাইল ব্লকের বর্তমান কর্মাধ্যক্ষ শেখ মহম্মদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ও প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ সহ বহু নেতা-কর্মী তৃণমুল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন।

কংগ্রেসের দাবি: জেলা কংগ্রেস পর্যবেক্ষক সুমন রায়চৌধুরী এই যোগদানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “যারা জাতি বা ধর্মের নামে বিভাজন চায় না, তারা বিকল্প হিসেবে একমাত্র জাতীয় কংগ্রেসকেই বেছে নিচ্ছে। সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির একটি বড় অংশ আজ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হলো।” কংগ্রেসের দাবি, আগামী ১-২ দিনের মধ্যেই হাওড়া জেলা কংগ্রেস দফতরে আরও প্রায় ৫০০ তৃণমূল নেতা-কর্মী দলে যোগ দিতে চলেছেন।

যোগদান নিয়ে কী বলছে প্রদেশ নেতৃত্ব? প্রদেশ কংগ্রেসের মতে, ক্ষমতার মোহে অনেকেই বিগত দিনে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন, কিন্তু এখন তাঁরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারছেন। রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কংগ্রেসই একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প।

কারা আসতে পারবেন কংগ্রেসে? তৃণমূল থেকে দলে আসার এই হিড়িকের মাঝেও কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে কংগ্রেস। দলের জেলা পর্যবেক্ষক সুমন রায়চৌধুরী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন:

  • দুর্নীতিমুক্ত: যাঁদের গায়ে দুর্নীতির কালো দাগ রয়েছে, তাঁদের কংগ্রেসে কোনো জায়গা নেই।

  • মানুষের সমর্থন: শুধুমাত্র সেইসব নেতাদেরই নেওয়া হবে, যাঁদের দেখলে মানুষ অসম্মান করেন না এবং যারা জনগণের পাশে থেকেছেন। দুর্নীতি ও অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য কংগ্রেসের দরজা চিরতরে বন্ধ বলে জানিয়েছেন তিনি।

আগামী পরিকল্পনা: সাঁকরাইল ব্লক ছাড়াও হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় আগামী দিনে বড় বড় যোগদান সভা করার পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা কংগ্রেস। খুব শীঘ্রই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নিজে সাঁকরাইলে গিয়ে একটি বিশাল কর্মীসভায় যোগ দেবেন বলেও জানানো হয়েছে। তৃণমূলের এই ভাঙন আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সমীকরণ কতটা বদলাবে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *