‘ইরানের হিট লিস্টে আমি!’ প্রাণনাশের আশঙ্কা ট্রাম্পের, দিলেন কঠোর পাল্টা হুঁশিয়ারি

ফের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তুঙ্গে উত্তাপ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে, বহু বছর ধরেই তিনি ইরানের ‘হিট লিস্টে’ রয়েছেন। তাঁর ওপর যদি কোনো প্রাণঘাতী হামলা সফল হয়, তবে ইরানকে তার চরম মূল্য চোকাতে হবে—এমনই কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।
কী বলেছেন ট্রাম্প?
১০ জুলাই এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, তিনি আগেই মার্কিন প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন—যদি তাঁর ওপর কোনো হামলা সফল হয়, তবে যেন ইরানকে অভূতপূর্ব সামরিক জবাব দেওয়া হয়। যদিও ইজরায়েলের কাছ থেকে তিনি আলাদা কোনো সতর্কবার্তা পেয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরাসরি ‘না’ বলে এড়িয়ে যান। তাঁর দাবি, এই হুমকির সঙ্গে তিনি বহু বছর ধরেই অভ্যস্ত।
উত্তেজনার নেপথ্যে কি কাশেম সোলেমানি?
বিশ্লেষকদের মতে, এই চরম উত্তেজনার মূলে রয়েছে ২০২০ সালের সেই বিতর্কিত সামরিক অভিযান, যেখানে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাশেম সোলেমানিকে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই তেহরানের শীর্ষ নেতারা বারবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে এসেছেন। অতীতে বিভিন্ন বিক্ষোভে তাঁর প্রতীকী মূর্তি পোড়ানোর ঘটনাও সামনে এসেছে।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি:
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্প যে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, তা তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট। নিরাপত্তাজনিত কারণে অতীতে বহুবার তাঁর ভ্রমণসূচি ও যাতায়াতের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক ন্যাটো সম্মেলনেও বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা নিয়ে ট্রাম্পের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ:
ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের পরমাণু কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞাজনিত সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও এই দাবির প্রেক্ষিতে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য যে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে, তাতে সন্দেহ নেই। আন্তর্জাতিক মহল এখন পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।