পকসো মামলার জামিন পেতেই ভয়ঙ্কর কাণ্ড! একাই ৬ জনকে নৃশংসভাবে খুন করল অভিযুক্ত

পকসো (POCSO) মামলায় জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী রইল তেলেঙ্গানার রাঙ্গারেড্ডি জেলা। শাবাদ মণ্ডলের দৈবলগুড়ায় শনিবার ভোররাতে রাজকুমার (২৮) নামক এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার প্রতিশোধ নিতে নির্যাতিতা নাবালিকা-সহ পরিবারের মোট ৬ জনকে নৃশংসভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
খুনের শিকার যারা:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছে নির্যাতিতা নাবালিকা, তার মা, তার দিদা, অভিযুক্তের স্ত্রী সরিতা এবং অভিযুক্তের নিজের দুই শিশু সন্তান (৩ বছরের কন্যা ও ২ বছরের পুত্র)।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
গত ১৬ মে এক নাবালিকাকে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগে রাজকুমারের বিরুদ্ধে পকসো মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতারও করে। কিছুদিন জেল হেফাজতে থাকার পর সম্প্রতি সে জামিনে মুক্তি পায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সেই মামলার আক্রোশ থেকেই সে নির্যাতিতা এবং তার পরিবারকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল। তবে কেন সে নিজের স্ত্রী এবং দুই নিষ্পাপ সন্তানকে হত্যা করল, তা এখনো রহস্য।
কীভাবে ফাঁস হলো ঘটনা?
পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস কাণ্ড ঘটানোর পর অভিযুক্ত রাজকুমার নিজেই তার বাবা-মাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। ঘটনার ভয়াবহতা বুঝে রাজকুমারের বাবা-মা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। খবর পাওয়ার পরই কমিশনার তরুণ যোশী এবং ডেপুটি কমিশনার যোগেশ গৌতমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অভিযুক্ত রাজকুমারকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে।
পরিবারের আহাজারি:
ঘটনার আকস্মিকতায় ভেঙে পড়েছে নিহতের পরিবার। অভিযুক্তের শ্যালক জানান, “জামাইবাবুর বিরুদ্ধে পকসো মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই সে খুব দুশ্চিন্তায় ছিল। জেলের গ্লানি ও ক্ষোভ থেকেই সে এমন ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার দিদি ও দুই ভাগ্নে-ভাগ্নিকে যে নিষ্ঠুরভাবে আমাদের থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আমি তার কঠোরতম শাস্তি চাই।”
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খুনের আসল উদ্দেশ্য এবং ঘটনার সময় সে কোনো মাদক বা অন্য কিছুর প্রভাবে ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় শাবাদ মণ্ডলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।