১০টি রুটে শুরু হাইড্রোজেনের ‘পাইলট প্রজেক্ট’, পরিবহণ শিল্পে বড় বিপ্লবের পথে ভারত

জ্বালানি হিসেবে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এবার হাইড্রোজেনের দিকে ঝুঁকছে ভারত। বৃহস্পতিবার গান্ধিনগরে এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতীন গড়করি স্পষ্ট করলেন, ভারতের পরিবহণ শিল্পের ভবিষ্যৎ হলো হাইড্রোজেন। এই লক্ষ্য পূরণে ইতিমধ্যেই ১০টি রুটে পাইলট প্রজেক্টের কাজ শুরু করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কোথায় কোথায় চলছে পরীক্ষা? হাইড্রোজেন চালিত পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মূলত দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য রুটগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • গ্রেটার নয়ডা-দিল্লি-আগ্রা

  • ভুবনেশ্বর-কোনারক-পুরী

  • আমেদাবাদ-বদোদরা-সুরাত

  • পুনে-মুম্বই

  • জামশেদপুর-কলিঙ্গ নগর

  • তিরুঅনন্তপুরম-কোচি ও বিশাখাপত্তনম-বায়ইয়াভরম রুট।

পরিবহণ শিল্পে ভারতের লক্ষ্য মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের অটোমোবাইল শিল্পের লেনদেন ২২ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং ভারত বিশ্ববাজারে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তবে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে সরকার বদ্ধপরিকর। বর্তমানে যেখানে বার্ষিক তিন লক্ষ বাসের প্রয়োজন, সেখানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৭০-৮০ হাজার। এই উৎপাদন তিনগুণ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। পাশাপাশি, বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাকের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির খরচ কমানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা ও বাসের আধুনিকায়ন শুধু জ্বালানি নয়, সড়ক সুরক্ষাতেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। প্রতি বছর দুর্ঘটনায় প্রায় ১.৮০ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে উল্লেখ করে গড়করি জানান, দুর্ঘটনার জেরে দেশের জিডিপি-র ৩ শতাংশ ক্ষতি হয়। বাসযাত্রাকে আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে ‘বাস বডি কোড’ সংশোধনের পাশাপাশি টেস্টিং খরচ ৫০ শতাংশ কমানো এবং প্রক্রিয়াকরণের সময়সীমা ১৬ সপ্তাহ থেকে কমিয়ে ৬ সপ্তাহে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ভবিষ্যতের পথ মন্ত্রী জানান, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ‘বাসপোর্ট’ নির্মাণ এবং ‘গ্রিন এক্সপ্রেস হাইওয়ে’ তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এই প্রকল্পগুলি কেবল পরিবহণ সময় কমাবে না, বরং শিল্পক্ষেত্রে মুনাফা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে, আগামী দিনে প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে ভারত বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে বলে আশাবাদী নীতীন গড়করি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *