বিশেষ: বিমান বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলো বাঙালি ছেলে মিন্টু, ওড়ালেন আকাশে
বাংলাদেশের খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কলেজছাত্র মিন্টু সরদার একটি বিমান তৈরি করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার তৈরি করা বিমান উড়ানো দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত মানুষ।
উপজেলার শোভনা গ্রামের দিনমজুর কৃষক দেবপ্রসাদ মণ্ডলের বড় ছেলে মিন্টু সরদার নগরীর বিএল কলেজে গণিতে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র।
এর আগে সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তিনি মাটি কাটার গাড়ি এবং অষ্টম শ্রেণিতে পানি সেচের পাম্প তৈরি করে তাক লাগিয়ে দেন। পরে বিজ্ঞান মনস্ক মিন্টু কলেজে পড়ার সময় টেলিভিশনে বিমান তৈরির একটা খবর দেখে তারও বিমান তৈরির ইচ্ছা জাগে।
অভাব-অনটনের সংসারে বাবা-মায়ের দেয়া কিছু টাকা এবং বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে ধারদেনা করে তার বিমান তৈরির চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। ইন্টারনেট ঘেঁটে-ঘেঁটে তিনি প্রথমবার ককসিট দিয়ে বিমানের আদল তৈরি করলেও উড়াতে পারেননি। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় বিমান আকাশে উড়লেও নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন। গত ১৫ ডিসেম্বর মিন্টু তার এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানসহ অসংখ্য মানুষের সামনে নিজের তৈরি বিমানটি সফলভাবে আকাশে উড়িয়ে দেখান।
হতদরিদ্র মিন্টুদের সাতজনের একান্নভুক্ত পরিবার। একটি মাত্র মাটির দেয়ালে টিনের ছাউনি দেয়া ঘরে সবাই বসবাস করেন। ছেলেটির বিমান তৈরির মতো বড় স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলার বিষয়টি এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে।
মিন্টু সরদার জানান, বিমানটি বাংলাদেশ বিমানের আদলে তৈরি করেছেন। ককসিটে তৈরি মূল বিমানটির দৈর্ঘ্য ৬৬ ইঞ্চি। দুপাশের ডানা ৬৫ ইঞ্চি লম্বা। ওজন দেড় কেজি। ওই বিমানে ৯৪০ গ্রাম ওজনের ২টি ব্রাশলেস ড্রোন মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। রিচার্জেবল লিপো ব্যাটারির শক্তিতে চালিত বিমানটি রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে গতি-ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বর্তমানে ওই বিমানটি তিন কেজি ওজন বহন করতে পারে।
তিনি জানান, বিমান তৈরিতে এ পর্যন্ত তার ২৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিমানটি আকাশে টানা সাত মিনিট উড়তে পারে। বিমানটি দেড় কিলোমিটার রেঞ্জে চলতে পারে। তবে রেঞ্জ আরও বাড়ানো সম্ভব। শিগগিরই ককসিটের পরিবর্তে ডেফরন বোর্ড দিয়ে বিমানের বডি তৈরি করবেন। টাকা জোগাড় হলে বিমানটিতে ২-৩ জন মানুষ নিয়ে চলাচলের উপযোগী করে তৈরি কররবেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত প্রযুক্তির মনুষ্যবিহীন প্লেন বানাতে পারবেন।
শোভনা গ্রামের বাসিন্দা গৌতম বিশ্বাস বলেন, মিন্টুর তৈরি বিমান উড়তে দেখে গ্রামের সবাই খুব খুশি।
শোভনা ইউপি চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত বৈদ্য বলেন, অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী মিন্টু একটা বড় আবিষ্কার করে আমাদের এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি আরও বড় কিছু করে দেখাতে পারবে।
ডুমুরিয়ার ইউএনও শরীফ আসিফ রহমান বলেন, বিমার তৈরি কোনো সহজ বিষয় না। ছেলেটি অসাধারণ কাজ করেছে। তার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জেনে তাকে সহায়তা করার কথা ভাবছি।