শোরগোল বিশ্ববাজারে: যুদ্ধের আবহে রেকর্ড মুনাফা এক্সনমবিল-শেভরনের, কাঠগড়ায় বড় সংস্থা

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার সুযোগে বিশ্বের তেল কোম্পানিগুলো কি সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে? সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, স্ট্রেইট অফ হরমজে অবরোধ ও যুদ্ধের আবহে যখন বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একশো ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন এক্সনমবিল (ExxonMobil) ও শেভরনের (Chevron) মতো কোম্পানিগুলো রেকর্ড মুনাফা অর্জন করেছে। অথচ এর জেরে আমেরিকায় গ্যাসোলিনের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একসময় ১০৯ ডলারে পৌঁছেছিল। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমেরিকার পেট্রোল পাম্পগুলোতে, যেখানে গড় দাম ৪.৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এক্সনমবিলের আনুমানিক মুনাফা ১৫.৯ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে, যা আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় তিন গুণ বেশি। এই অস্বাভাবিক মুনাফার খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের নাম করে জনতাকে লুঠের অভিযোগ এনে তিনি তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, অপরিশোধিত তেলের দাম কমার সুফল সাধারণ মানুষকে দিতে হবে এবং গ্যাসোলিনের দাম ২.২৫ থেকে ২.৫০ ডলারের মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে। অন্যদিকে, কোম্পানিগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, অপরিশোধিত তেল থেকে পেট্রোলের দামের মধ্যে সময়ের ব্যবধান থাকাটা বাজারের স্বাভাবিক নিয়ম। তবে বড় প্রশ্ন রয়েই গেল—যুদ্ধের অস্থিরতাকে কি ব্যবসায়িক মুনাফার হাতিয়ার করছে এই কর্পোরেট জায়ান্টরা? সেই উত্তর খুঁজছে এখন গোটা আমেরিকা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *