তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় হাইকোর্টের স্বস্তি! খরচ চালাতে এল বিশেষ কৌশল

তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় কিঞ্চিৎ স্বস্তি পেল জোড়াফুল শিবির। দলের দৈনন্দিন খরচ চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করে বড়সড় অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের নির্দেশে, দলের জরুরি খরচ মেটানোর জন্য এবার থেকে নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।
কী ব্যবস্থা নিল আদালত?
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে এই মামলায় ‘স্পেশাল অফিসার’ হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দলের দুই জন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিগনেটরি অথরিটি) তিনটি অ্যাকাউন্টের চেকের প্রতিলিপি স্পেশাল অফিসারের কাছে পাঠাবেন। সেই চেকগুলোতে স্পেশাল অফিসার পাল্টা স্বাক্ষর করার পরেই ব্যাংক টাকা ছাড়বে। অর্থাৎ, দৈনন্দিন খরচের ওপর স্পেশাল অফিসারের কড়া নজরদারি থাকবে। আদালতের সাফ নির্দেশ, এই জরুরি খরচ ছাড়া অন্য কোনও লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
তীব্র বাদানুবাদ এজলাসে:
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ১৮ জুন অভিযোগ দায়ের আর ১৯ জুন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ—কীভাবে এত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলো? তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে পুলিশ এত সক্রিয় হয় না, অথচ এখানে যেন আলোর গতিতে কাজ হয়েছে!” এছাড়া, তদন্তের প্রাথমিক নথি বা ‘মেটেরিয়াল’ দেখে আদালত যে সন্তুষ্ট নয়, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিচারপতি।
এদিন তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলকে পঙ্গু করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, যে অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করা হয়েছে, তা থেকে সম্প্রতি অভিযোগকারী বিধায়করাও ভোটের খরচের টাকা নিয়েছেন। পাল্টা সওয়াল করে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, অভিযোগের ঠিক আগেই বড় অঙ্কের টাকা সরানোর চেষ্টা হয়েছিল।
মামলার প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, তৃণমূলের একাংশ বিধায়ক দল নিয়ে পাল্টা অভিযোগ জানানোর পরই এই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত জটিলতার সূত্রপাত। বর্তমানে অভিযোগকারীরা প্রকৃত তৃণমূল কি না, তা নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন। তবে আপাতত দৈনন্দিন খরচ ও কর্মীদের বেতন মেটানোর জন্য আদালতের এই ‘মাঝপথের সমাধান’ তৃণমূলের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।