মৃত্যুর ৫ মিনিট আগে ঠিক কী ঘটে? গরুড় পুরাণে লুকিয়ে আছে মহাজাগতিক রহস্য!

মৃত্যু—মানবজীবনের পরম সত্য। এই সত্যকে ঘিরে চিরকালই মানুষের মনে থেকেছে হাজারো প্রশ্ন। জন্মের পর কোথায় যায় আত্মা? মৃত্যুর ঠিক মুহূর্তেই বা কী অনুভব করে একজন মানুষ? এই সব জটিল রহস্যের উত্তর মিলেছিল স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু ও তাঁর বাহন পক্ষীরাজ গরুড়ের সংলাপে। যা আজ ‘গরুড় পুরাণ’ নামে পরিচিত।
মৃত্যুর ঠিক ৫ মিনিট আগে:
গরুড় পুরাণের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মৃত্যুর ঠিক ৫ মিনিট আগে একজন মানুষের জীবনে এক অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। এই সময় ব্যক্তি ‘দিব্যদৃষ্টি’ লাভ করেন। যার ফলে, তিনি নিজের সমগ্র জীবনের সমস্ত ভালো ও মন্দ কর্মের খতিয়ান চোখের সামনে দেখতে পান। অর্থাৎ, পুরো জীবন যেন একটি চলচ্চিত্রের মতো তাঁর চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
স্বর রুদ্ধ হওয়ার মুহূর্ত:
পুরাণ অনুযায়ী, এই শেষ মুহূর্তে মানুষের শারীরিক শক্তি ফুরিয়ে যায় এবং কথা বলার ক্ষমতা চলে যায়। সে চাইলেও নিজের অভিজ্ঞতার কথা কাউকে বলতে পারে না। ঠিক এই সময়েই যমরাজের দূতরা আত্মাকে নিতে উপস্থিত হন। তবে সব আত্মা একরকম অভিজ্ঞতা পায় না:
পাপী আত্মা: যমের দূতদের অত্যন্ত ভয়ংকর রূপ দেখতে পায় এবং গভীর আতঙ্কে নিমজ্জিত হয়।
পুণ্যবান আত্মা: দিব্য আলো ও দেবদূতদের দর্শন পায়, যা তাদের শান্তিতে পরপারে যেতে সাহায্য করে।
যমলোকের ভয়ংকর পথ:
দেহ ত্যাগের পর শুরু হয় যমলোকের দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা। গরুড় পুরাণে বৈতরণী নদীর ভয়াবহ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা রক্ত ও পাপে পরিপূর্ণ। পাপী আত্মাদের এই নদীতে থাকা হিংস্র জীবজন্তু ও কুমির দ্বারা বিভিন্ন যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। পুরাণমতে, যমলোকের পথে এমন অনেক নগর ও স্থান রয়েছে, যেখানে আত্মা তাদের কর্মফল অনুযায়ী শাস্তি বা পুরস্কার ভোগ করে।
মানুষের কর্মই যে তার মৃত্যুর পরবর্তী গন্তব্য ঠিক করে দেয়, গরুড় পুরাণের শিক্ষা মূলত সেখানেই নিহিত। হাজার বছর ধরে প্রচলিত এই বিশ্বাস আজও মানুষের মনে মৃত্যু ও পরলোক নিয়ে এক গভীর চিন্তার খোরাক জোগায়।