ভারতের জন্য সুখবর! আইএমএফ-এর চেয়েও উজ্জ্বল ভারতের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ, জানাল এডিবি

বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে কিছুটা স্বস্তির খবর শোনাল এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়ে দিলেও, এডিবি ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর ভরসা রাখতে নারাজ নয়। দুই সংস্থার তথ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, আইএমএফ-এর তুলনায় এডিবি ভারতের প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্তত ২০ বেসিস পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।
এডিবি-র পূর্বাভাসে কী আছে?
এডিবি-র সাম্প্রতিক ‘এশীয় উন্নয়ন আউটলুক’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার হতে পারে ৬.৬ শতাংশ। যদিও ক্রমবর্ধমান তেল ও পরিবহন খরচ এবং ব্যক্তিগত চাহিদায় কিছুটা ভাটার কারণে এই হার এপ্রিলে করা ৬.৯ শতাংশের পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা কম। তবে, ২০২৮ অর্থবর্ষের জন্য এডিবি-র পূর্বাভাস অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক—৭.৩ শতাংশ। অন্যদিকে, আইএমএফ-এর একই সময়ের জন্য পূর্বাভাস যথাক্রমে ৬.৪ শতাংশ এবং ৬.৭ শতাংশ। অর্থাৎ, আইএমএফ-এর চেয়ে ভারতের অর্থনীতির শক্তি নিয়ে এডিবি অনেকটাই বেশি আত্মবিশ্বাসী।
কেন এই আশাবাদ?
এডিবি মনে করছে, বেশ কিছু নীতিগত পরিবর্তন ভারতের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
বিদেশি পুঁজি আকর্ষণে নতুন নীতি।
জ্বালানি কর হ্রাস।
ঋণ সহায়তা ও বিশেষ করে পরিষেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে জোর দেওয়া।
সরকারের মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত।
মুদ্রাস্ফীতির চ্যালেঞ্জ
তবে সবটাই যে সুখবর, তা কিন্তু নয়। জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের চড়া দামের প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। ফলে, ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস ৪.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫.২ শতাংশ করেছে এডিবি। ২০২৮ সালে অবশ্য এটি ৪ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গোটা দক্ষিণ এশিয়ার ওপর নজর
কেবল ভারত নয়, তেলের উচ্চমূল্য, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং রেমিটেন্স প্রবাহের অনিশ্চয়তার কারণে গোটা দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও ৬.৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬.০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়াও, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) ব্যাহত হওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উন্নয়নশীল এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধিতেও কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।
সব মিলিয়ে, মুদ্রাস্ফীতির চ্যালেঞ্জ থাকলেও বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান বড় অর্থনীতি হিসেবে ভারত যে নিজের জায়গা ধরে রাখতে চলেছে, তা এডিবি-র প্রতিবেদনে স্পষ্ট।