আরজি কর কাণ্ডে নতুন বিস্ফোরণ! ভিসেরা কারচুপি নিয়ে বড় নির্দেশ আদালতের, সিবিআই তদন্তের পথে?

আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে এবার এক চাঞ্চল্যকর মোড়। নির্যাতিতার বাবার কাছে আসা এক রহস্যময় চিঠিকে কেন্দ্র করে বড়সড় পদক্ষেপ নিল শিয়ালদহ আদালত। ভিসেরা স্যাম্পল নিয়ে কারচুপির যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখতে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)-কে বিশেষ নির্দেশ দিল আদালত।

কী রয়েছে ওই চিঠিতে?
সম্প্রতি নিজেকে রাজ্য ফরেন্সিক বিভাগের প্রাক্তন আধিকারিক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তিলোত্তমার বাবাকে একটি চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের পর সংরক্ষিত ভিসেরা স্যাম্পলের (লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর নমুনা) সঙ্গে কারচুপি করা হয়েছে। চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে:

মৃত্যুর আগে নির্যাতিতার শরীরে ঘুমের ওষুধ বা বিষাক্ত পদার্থ ছিল কি না, তা ভিসেরা রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট হতো। কিন্তু সেই নমুনাই বদলে ফেলা হয়েছে।

রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাব থেকে কেন্দ্রীয় ল্যাবে নমুনা পাঠানোর সময় এই কারচুপি চালানো হয়।

এই ঘটনার পেছনে রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাবের তিন আধিকারিকের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ। চিঠিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশ:
চিঠির বয়ান প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। চিঠিতে আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তিলোত্তমার পরিবার। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে শিয়ালদহ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, চিঠির আসল কপিটি অবিলম্বে সিবিআই দফতরে পাঠাতে হবে।

তিলোত্তমার পরিবারের আইনজীবী অমর্ত্য দে জানান, “তদন্তের স্বার্থেই আদালত সিবিআইকে এই চিঠি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। শিয়ালদহ আদালতের জিআরও-কে (GRO) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যেন মূল কপিটি কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে তুলে দেওয়া হয়।”

তদন্তের নতুন দিক:
আদালতের এই নির্দেশের ফলে আরজি কর মামলার তদন্তে নতুন গতি আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ফরেন্সিক নমুনার এই ‘কারচুপি’র অভিযোগ যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে তা মামলার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিতে পারে। এখন সিবিআই এই চিঠি এবং এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের কীভাবে শনাক্ত করে, সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *