প্রকাশ্যেই কর্মীকে চড়! বারুইপুরের ঘটনার প্রতিবাদে মেজাজ হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারুইপুরের ঘটনার প্রতিবাদে নিজের কালীঘাটের বাড়ির সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালীন তিনি মেজাজ হারিয়ে দলেরই এক কর্মীকে সপাটে চড় মারলেন। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

কী ঘটেছিল?

মঙ্গলবার বারুইপুরের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাইক্রোফোন হাতে ভাষণ দিচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর বাড়ির বাইরে ব্যাপক হট্টগোল শুরু হলে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামেন। অভিযোগ, সেই ভিড় সামলানোর সময় মেজাজ হারিয়ে তিনি দলের এক কর্মীকে চড় মেরে বসেন। যদিও সেই কর্মী কেন চড়ের মুখে পড়লেন বা কী কারণে মুখ্যমন্ত্রী মেজাজ হারালেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিজেপির কটাক্ষ

এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানসিক ভারসাম্য বজায় নেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সরাসরি আক্রমণ করে বলেছেন, “এই ধরনের ঘটনা থেকেই স্পষ্ট যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানসিক অবস্থা ভালো নয়।”

পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ মমতার

নিজের ভাষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি:

  • আইটি সেলের সভাপতিকে আক্রমণ: আইটি সেলের সভাপতিকে ঘিরে ধরে আক্রমণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি প্রশাসনকে দায়ী করেছেন।

  • হাইকোর্টের নির্দেশের অবমাননা: তিনি অভিযোগ করেন যে, হাইকোর্ট অনুমতি দিলেও পুলিশ তাদের হ্যান্ড মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়েছে এবং কর্মীদের মারধর করেছে।

  • বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার: বারুইপুরে ৫০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতারের ঘটনা এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মহিলাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

রাজ্যে অস্থিরতার অভিযোগ

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দুর্গাপুর, বর্ধমান, ভগবানপুর এবং পটাশপুরে একই ধরনের অস্থিরতা চলছে। দুই মাসে রাজ্যে ১৪ জনেরও বেশি মহিলার ওপর নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ তুলে তিনি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আবেদন জানিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে এখন শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাকযুদ্ধ চরমে। প্রশাসনিক স্তরে চরম বিশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধৈর্যচ্যুতি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *