মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত! তেলের দামে এক লাফে ৬ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় আবারও টালমাটাল বিশ্ববাজার। ইরানের ওপর মার্কিন হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর কাছে তিনটি জাহাজে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ৬ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ঘটনা বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বাজারের বর্তমান অবস্থা

বুধবারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তেলের বাজারের প্রধান দুই বেঞ্চমার্কের দামই ঊর্ধ্বমুখী:

  • ব্রেন্ট ক্রুড: ব্যারেলপ্রতি দাম পৌঁছেছে প্রায় ৭৮.৮০ ডলারে।

  • মার্কিন ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড: ব্যারেলপ্রতি লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭৫ ডলারে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রায় ৬.৪ শতাংশ দর বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে, যা কয়েক দিনের স্থিতিশীলতার পর হঠাৎ করেই অস্থিরতা তৈরি করেছে।

কেন এই উদ্বেগ?

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ। এই অঞ্চলে হামলা এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান শত্রুতা তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা মওকুফের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার পর থেকেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে।

ভারতের ওপর এর প্রভাব কী?

ভারত তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এভাবে চড়তে থাকলে ভারতের ওপর নিম্নোক্ত প্রভাবগুলো পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে: ১. আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি: তেলের দাম বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে চাপ বাড়বে। ২. মুদ্রাস্ফীতি: পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকে। ৩. জ্বালানির দাম: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘমেয়াদী বেশি থাকলে তা দেশের পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্ববাজারের প্রতিক্রিয়া

শুধু তেলের দাম নয়, এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ার বাজারেও। জাপানের নিক্কেই এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচকের বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তি যেকোনো সময় বিশ্বজুড়ে আরও বড় সংকটের কারণ হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *