রাম মন্দিরের অনুদান চুরির নেপথ্যে অবিনাশ! ৪০ দিনে ৭০ বার হাতসাফাই, সামনে এল সিট-এর রিপোর্ট

অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান নিয়ে ওঠা বিতর্ক ও চুরির ঘটনায় তদন্তকারী দলের (SIT) প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। মন্দিরের দানপাত্রে জমা পড়া টাকা গোনার দায়িত্বে থাকা ৩০ বছর বয়সী অবিনাশ শুক্লা-কেই এই পুরো চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল মাথা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিট।

৪০ দিনে ৭০ বার হাতসাফাই

তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল সম্প্রতি ৯ পাতার একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে:

  • সুযোগের অপব্যবহার: ভক্তদের নগদ দক্ষিণা গোনার দায়িত্বে থাকা অবিনাশ নিজের কাজের সুযোগ নিয়েই দীর্ঘ ৪০ দিনে প্রায় ৭০ বার টাকা ও গহনা চুরি করেছে।

  • সিসিটিভি ফুটেজে প্রমাণ: টাকা গোনার ঘরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, অবিনাশ নোটের বান্ডিল লুকিয়ে নিজের পোশাকে ভরে নিয়ে যেত। ফুটেজেই তাকে টাকা সরাতে হাতেনাতে ধরা হয়েছে।

চক্রের নেটওয়ার্ক ও উদ্ধার হওয়া সম্পদ

অবিনাশ একা নয়, তার এই অপকর্মে সরাসরি মদত দিত আরও কয়েকজন।

  • সহযোগীদের ভূমিকা: অনুকূল মিশ্র, লবকুশ মিশ্র এবং করুণেশ পাণ্ডে টাকা লুকিয়ে ঘর থেকে বাইরে পাচারে সাহায্য করত। মণীশ কুমার যাদব ভেতরে কো-অর্ডিনেশন সামলাত। এছাড়া রামা শঙ্কর মিশ্র নামে আরেকজনকে নোটের বান্ডিল সরাতে দেখা গেছে।

  • বিলাসবহুল জীবন: তল্লাশি চালিয়ে অবিনাশের হেফাজত থেকে নগদ ২০ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা, ১,১২১ মার্কিন ডলার, প্রচুর সোনা-রুপোর গহনা এবং একটি দামি এসইউভি গাড়ি উদ্ধার হয়েছে।

  • অস্বাভাবিক আয়: যেখানে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে তার মাসিক বেতন ছিল ১৫ হাজার টাকার কিছু বেশি, সেখানে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়া বিপুল পরিমাণ টাকা এবং বিলাসবহুল জীবনযাত্রা তদন্তকারীদের চক্ষু চড়কগাছ করে দিয়েছে।

বাড়ির ভেতর ‘ভুয়ো দানবাক্স’!

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, অবিনাশের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি চুরির দানবাক্স পাওয়া গেছে, যাতে লেখা ছিল ‘রামরাজ্য কোষ’। এমনকি তাতে একটি সক্রিয় কিউআর (QR) কোডও ছিল, যার মাধ্যমে সে সাধারণ মানুষের থেকে প্রতারণা করে অর্থ সংগ্রহ করত।

বর্তমান পরিস্থিতি

এই মামলায় এখন পর্যন্ত অবিনাশ শুক্লা, সুভাষ শ্রীবাস্তব-সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এখনও পর্যন্ত মোট ৭৯ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ ও সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। এসআইটি এখন ট্রাস্টের গত ৫ বছরের সমস্ত আয়-ব্যয়ের অ্যাকাউন্ট নতুন করে অডিট (Re-audit) করার নির্দেশ দিয়েছে। মন্দির চুরির এই ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *