আর্থিক শৃঙ্খলার কড়া বার্তা নবান্নের: উন্নয়ন প্রকল্পে তহবিল ছাড় নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজ যাতে কোনোভাবেই থমকে না যায়, তার জন্য বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য অর্থ দফতর। চলতি ২০২৬-২৭ আর্থিক বর্ষে ‘স্টেট ডেভেলপমেন্ট স্কিম’-এর অধীনে বাজেটে বরাদ্দ অর্থের ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত খরচে ছাড়পত্র দিয়েছে নবান্ন। মঙ্গলবার অর্থ দফতরের জারি করা এই নির্দেশিকা ঘিরে প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে তৎপরতা।

কী জানা গেল এই নির্দেশিকায়? চলতি আর্থিক বছরের প্রথম চার মাসের (এপ্রিল থেকে জুলাই) ‘ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট’ বা অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটের ওপর ভিত্তি করেই এই তহবিল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মূলত গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন (RIDF), রাস্তাঘাট এবং পানীয় জলের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলিকে গতিশীল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। রাজ্যের অতিরিক্ত সচিব পিকে মিশ্রের স্বাক্ষর করা এই নির্দেশিকা আজ থেকেই কার্যকর হয়েছে।

খরচের ক্ষেত্রে কড়া শর্ত ও সতর্কতা: টাকা খরচের ছাড়পত্র দিলেও অর্থ দফতর কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলার বার্তাও দিয়েছে। নবান্নের জারি করা মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী:

  • কেন্দ্রীয় স্কিম ও অর্থ কমিশন: পঞ্চদশ ও ষোড়শ অর্থ কমিশনের আওতাধীন প্রকল্প কিংবা যে সমস্ত প্রকল্পে কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অর্থ দফতরের আগাম অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

  • বিশেষ খাতে ছাড়পত্র: ভর্তুকি, ঋণ প্রদান বা বিনিয়োগের মতো ক্ষেত্রে অর্থ দফতরের চূড়ান্ত অনুমতি ছাড়া টাকা ছাড়া যাবে না।

  • ফিনান্সিয়াল অ্যাডভাইজার: প্রতিটি দফতরের আর্থিক উপদেষ্টার (Financial Advisor) সম্মতি ছাড়া কোনো ফাইল প্রসেস করা যাবে না।

  • অতিরিক্ত ব্যয় নিষিদ্ধ: বাজেটের নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

স্বচ্ছতায় জোর: সরকারি কোষাগারের অর্থের যাতে অপচয় না হয়, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সমস্ত জেলাশাসক, ট্রেজারি অফিসার এবং বিভিন্ন দফতরের সচিবদের। কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুরনো মেমোরেন্ডামগুলোর নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে। অর্থ দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, “প্রশাসনিক স্তরে উন্নয়ন কাজ মসৃণভাবে চালাতেই এই তহবিল ছাড়া হয়েছে, তবে স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকার প্রতিলিপি রাজ্যের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী কত দ্রুত রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *