গণপিটুনিতে মৃত ব্যক্তি ‘নির্দোষ’? পুলিশি রিপোর্টের ভিত্তিতে বড় মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে যে ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল, তিনি আদৌ দোষী নন বলে ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বারুইপুরে নিহত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, পুলিশি তদন্তে ওই মৃত ব্যক্তি ‘নির্দোষ’ বলেই উঠে এসেছে।
“উনি নির্দোষ, পুলিশ আমাকে যা বলেছে…” এদিন বারুইপুর এসপি অফিসে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “পুলিশ আমাকে যা বলেছে—তা আমি বলছি, এটা আমার কথা নয়—গণপিটুনিতে যাকে পিটিয়ে মারা হয়েছে, তিনি আসলে নির্দোষ ছিলেন।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ওই মৃত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা: নিহত নাবালিকার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওই পরিবারটির সঙ্গে কথা বলে আমি সন্তুষ্ট। তাঁরাও আমার আশ্বাসে সন্তুষ্ট।” তবে গণপিটুনি ও ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার যে কোনোভাবেই নমনীয় নয়, তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
-
২০০ জন চিহ্নিত: পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, রেললাইন উপড়ে ফেলা এবং আইন হাতে তুলে নেওয়া প্রায় ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
-
সরাসরি হুঁশিয়ারি: মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কাউকেই ছাড়া হবে না। যারা নেপথ্যে থেকে উস্কানি দিয়েছে, যারা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায়, তাদের কল রেকর্ড ও এসটিএফ-এর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক তরজা: উল্লেখ্য, বারুইপুরের এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু গণপিটুনির শিকার ব্যক্তি ‘নির্দোষ’ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় এই মামলায় নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করেছেন, অপরাধী যেমন শাস্তি পাবে, তেমনি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে অকারণে বলির পাঁঠা না হয়, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক।