ইসরায়েলি দাবি মিথ্যে? যুদ্ধের ময়দানে ‘নিহত’ তিন শীর্ষ নেতাকে দেখা গেল জানাজায়!

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নজিরবিহীন রহস্যের জন্ম দিল ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের জানাজা অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হলো এক চাঞ্চল্যকর মোড়। দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলি হামলায় ‘নিহত’ বলে ঘোষিত ইরানের তিন শীর্ষ নেতাকে হঠাৎই জানাজায় সশরীরে উপস্থিত হতে দেখা গেছে। এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন করে জল্পনা।
যাঁদের নিয়ে রহস্য:
মাহমুদ আহমাদিনেজাদ: ইরানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে ব্যাপক প্রচার ছিল। এমনকি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও তার মৃত্যুর দাবি জানিয়েছিল। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে খামেনেইয়ের জানাজায় উপস্থিত হয়ে তিনি সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন।
আহমদ ভাহিদি: আইআরজিসি (IRGC)-র প্রধান। তাঁকেও মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। জানাজায় উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানকে নতজানু করার আমেরিকান স্বপ্ন ভেঙে গেছে এবং লড়াই চলবে।
ইসমাইল কানি: কুর্দি বাহিনীর প্রধান। তাঁর মৃত্যু নিয়েও ব্যাপক ধোঁয়াশা ছিল। পরবর্তীতে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, জানাজায় তাঁর উপস্থিতি নিশ্চিত করল যে তিনি জীবিত এবং সক্রিয়।
কেন এই রহস্য?
এই তিন নেতার ফিরে আসা দুটি বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—ইরানের এমন আর কতজন নেতা ‘মৃত’ ঘোষিত হয়েও আত্মগোপনে বা নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন? দ্বিতীয়ত, এতদিন তাঁরা কোথায় ছিলেন? সামরিক বা নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে তাঁদের ‘নিহত’ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মোজতবা খামেনেইয়ের অনুপস্থিতি:
উল্টোদিকে, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের অনুপস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় তিনি জানাজায় যোগ দেননি বলে জানা গেছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ, তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। মোজতবার বদলে ১০১ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ হাসান নুরি মাশহাদে জানাজার নামাজে ইমামতি করেছেন।
বিশ্লেষণ:
ইসরায়েলের গোয়েন্দা দাবি এবং ইরানের বাস্তব চিত্রের এই বৈপরীত্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্বনেতারা এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন তেহরানের এই ‘রহস্যময় প্রত্যাবর্তন’-এর ওপর। এটি কি কোনো বড় সামরিক কৌশলের অংশ, নাকি নিছক রাজনৈতিক নাটক—তার উত্তর মিলবে আগামী দিনগুলোতে।