বারুইপুরের পর এবার মালদা, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, বিহার থেকে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

বারুইপুরের নৃশংস ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যের আরও এক প্রান্তে নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। এবার ঘটনাস্থল মালদার ইংরেজবাজার। যদুপুর এলাকার এক ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে।
ঘটনার বিবরণ পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার বিকেলে অভিযুক্ত শেখ রবিউল (৩০) নিজের বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে ওই নাবালিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে নেয়। অভিযোগ, এরপরই তাকে ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতিতা নাবালিকা বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তড়িঘড়ি মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন সে। পরিবারের পক্ষ থেকে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযুক্ত যুবক ঘটনার পরই এলাকা ছেড়ে বিহারের পূর্ণিয়ায় পালিয়ে যায়। তবে পুলিশের প্রযুক্তিগত নজরদারি ও তৎপরতায় রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। মালদার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মাকসুদ হাসান জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে সোমবার আদালতে হাজির করে সাত দিনের পুলিশ হেফাজত চাওয়া হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দ্রুত বিচারের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
বারুইপুর কাণ্ডে প্রশাসনিক তৎপরতা এদিকে, বারুইপুরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। আজ, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। ঘটনার তদন্তে আইজি-র নেতৃত্বে সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে। রাজ্য সরকার এই ঘটনায় দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছে এবং নির্যাতিতার পরিবারের প্রয়োজনীয় সমস্ত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বারুইপুর ও মালদার এই জোড়া ঘটনা রাজ্যের নারী নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। একদিকে বারুইপুরে যখন SIT তদন্তে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, অন্যদিকে মালদার ঘটনায় দ্রুত গ্রেপ্তারিতে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন উভয় ক্ষেত্রেই বিচার প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ।