তৃণমূলের তহবিলে ‘হাজার কোটি’র রহস্য! ইডির মেগা অভিযানে সরগরম রাজ্য রাজনীতি

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে এবার আসরে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সল্টলেক, নিউটাউন এবং কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত মিলিয়ে মোট পাঁচটি জায়গায় শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি অভিযান। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া সুরক্ষাবলয়ে চালানো এই অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
তদন্তের মূল লক্ষ্য কী?
ইডির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত ১৫ দিন ধরে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পরই সরাসরি মাঠে নেমেছেন তদন্তকারীরা। কেন্দ্রীয় এজেন্সির মূল ফোকাস হলো—তৃণমূলের ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলোতে জমা হওয়া বিপুল অর্থের উৎস কী, কোন প্রক্রিয়ায় সেই টাকা আসত এবং পরবর্তীতে কোথায় বা কোন খাতে তা ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি, বর্তমানে ওই অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালনার দায়িত্বে কারা রয়েছেন বা স্বাক্ষরকারী (Signatory) হিসেবে কাদের নাম রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
কেন ইডির নজরদারি?
সূত্রের খবর, এর আগে এই তহবিল সংক্রান্ত বিতর্কে রাজ্য পুলিশও তদন্তে নেমেছিল। তদন্তের স্বার্থে এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাংকে থাকা তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই ‘ডেবিট ফ্রিজ’ করা হয়েছে। এমনকি এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর শিবিরের পাঁচ বিধায়ক পুলিশের কাছে বয়ানও রেকর্ড করেছেন। পুলিশের এই তদন্তের মাঝেই ইডির এদিনের অভিযান বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এনেছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
সকাল থেকে সল্টলেকের সিজি ব্লকের একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে ইডির আধিকারিকদের উপস্থিতি এলাকায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। রাজ্য পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের সূত্র ধরেই কেন্দ্রীয় সংস্থা এই তল্লাশিতে নেমেছে বলে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বেআইনি কোনো অর্থ লেনদেনের প্রমাণ মিললে, আগামী দিনে এই মামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের তলব করার সম্ভাবনা প্রবল। রাজ্য রাজনীতির এই নতুন মোড় নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।