তৃণমূলের তহবিলে নজর ইডির! শহরের ৫ জায়গায় হানা, অভিষেককে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিলের ব্যবহার নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মঙ্গলবার সকালে সল্টলেক, রাজারহাট ও রাধাবাজারসহ শহরের মোট পাঁচটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
কেন এই তল্লাশি?
তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের চিঠির ভিত্তিতে এবং দলের তহবিলের সন্দেহজনক লেনদেন ও আর্থিক তছরূপের অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে। ইডি মূলত খতিয়ে দেখছে, দলের তহবিলের টাকা বেআইনি কোনো উদ্দেশ্যে বা ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহৃত হয়েছে কি না।
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’:
তল্লাশির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ নামক এক সংস্থা। অভিযোগ, এই সংস্থার চার্টার্ড বিমানই নিয়মিত ব্যবহার করতেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে এই সংস্থার ডিরেক্টর পবন জাজু ও রাজেশ জাজুর সল্টলেকের বাড়িতে পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা। একইসঙ্গে রাজারহাট ও রাধাবাজারে সংস্থাটির অফিসেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
অ্যাকাউন্ট ও কোষাধ্যক্ষ বিতর্ক:
জয়নগরের বিজেপি বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাঙ্ককে চিঠি দেওয়ার পরেই তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়। এই অ্যাকাউন্টগুলোতে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, এই মামলা চলাকালীন কোষাধ্যক্ষ পরিচয় নিয়েও দলের ভেতর দ্বিমত দেখা গেছে। অরূপ বিশ্বাস নিজেকে কোষাধ্যক্ষ দাবি করলেও, তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে শুভাশিস চক্রবর্তীই এই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
তৃণমূলের দলীয় তহবিলের টাকাতেই চার্টার্ড বিমানের খরচ মেটানো হতো কি না, তা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, এই টাকা তোলাবাজি বা দুর্নীতির মাধ্যমে সংগৃহীত। তদন্তকারী সংস্থা এখন এই অর্থের উৎস এবং তার ব্যবহারের আইনি বৈধতা খতিয়ে দেখছে।
তৃণমূলের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত এই তহবিলের দুর্নীতি নিয়ে ইডির এই তৎপরতা আসন্ন দিনে নতুন কোনো আইনি বিপাকে দলকে ফেলতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।