চুক্তি ভঙ্গ করে ফের হামলার পথে ইরান? হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

হরমুজ প্রণালীতে শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে করা চুক্তির কালি শুকানোর আগেই ফের সক্রিয় ইরান। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই কৌশলগত জলপথে অন্তত দু’টি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। জাহাজ দু’টি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
চুক্তি ভঙ্গ ও ট্রাম্পের হুঙ্কার:
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এক সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর শেষকৃত্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমেরিকা ইরানকে এক সপ্তাহের ‘বিরতি’ দিয়েছিল। ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে উত্তাপ ছড়াল হরমুজ প্রণালীতে।
ওমান উপকূলে ট্যাঙ্কারে অগ্নিকাণ্ড:
পাশাপাশি, মঙ্গলবার ভোরে ওমান উপকূলের অদূরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে প্রজেক্টাইল আঘাতের ফলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যদিও কোনো পক্ষই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে আন্তর্জাতিক মহলের সন্দেহের তির ইরানের দিকেই। সাম্প্রতিককালে একই রুটে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
খামেনেইর শেষযাত্রা ও পারিবারিক দৃশ্যপট:
ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর প্রয়াণে দেশজুড়ে শোকের আবহ এখনও কাটেনি। শেষকৃত্য উপলক্ষে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। তবে এই শেষযাত্রায় খামেনেইর উত্তরাধিকারী ও বর্তমান সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লাহ মোজতবা খামেনেইর অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি করেছে। যদিও শেষকৃত্যের প্রার্থনাসভায় খামেনেইর তিন পুত্র—মুস্তাফা, মসাম এবং মাসুদকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাব:
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর পর পর এমন হামলার ফলে তেলের বিশ্ববাজার অস্থির হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে শান্তির বৃহত্তর কাঠামো নিয়ে আলোচনার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে।